জাপানে এপ্রিল না অক্টোবর ইনটেক? খরচ, COE টাইমিং আর সিট পাওয়ার আসল হিসাব

তুমি কি জানো, জাপানের একটা ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে সিট পাওয়ার লড়াইটা আসলে শুরু হয় ভিসার আবেদনের ছয় মাস আগেই? গত বছর আমার এক ছাত্র, রাকিব, ভাবছিল অক্টোবর ইনটেকে যাবে। কিন্তু মে মাসে এসে দেখল, টোকিওর ওয়ার্ড ৩-৪টা স্কুলে সিট নেই। শেষে ওকে ওসাকার একটা স্কুলে ভর্তি হতে হয়। গল্পটা সত্যি, আর এজন্যই আজ আমি এপ্রিল আর অক্টোবর ইনটেকের পার্থক্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলব।
এপ্রিল বনাম অক্টোবর: জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল অ্যাডমিশন সিজন
জাপানের ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলগুলো মূলত দুইটা বড় সিজনে ভর্তি নেয়: এপ্রিল আর অক্টোবর। এপ্রিল ইনটেক হলো সবচেয়ে বড় আর পুরনো সিজন। এতে দুই বছরের কোর্স হয়, আর সিটও বেশি থাকে। অক্টোবর ইনটেক একটু ছোট, সাধারণত ১ বছর ৬ মাসের কোর্স।
আমি সবসময় ছাত্রদের বলি, এপ্রিল ইনটেক মানে তোমার হাতে সময় বেশি। তুমি ধীরে ধীরে JLPT N5 বা N4 শেষ করে N2 পর্যন্ত যেতে পারবে। অক্টোবর ইনটেকের ক্ষেত্রে একটু তাড়াহুড়ো থাকে। তবে অক্টোবরে একটা বড় সুবিধা আছে: যদি HSC-র রেজাল্ট দেরিতে আসে, তাহলে অক্টোবর তোমার জন্য পারফেক্ট।
টাকা-পয়সার হিসাব: april intake japan cost বনাম অক্টোবর
খরচের দিক থেকে দুই ইনটেকেই মোটামুটি একই রকম। প্রথম বছরের টিউশন ফি সাধারণত ৭০০,০০০ থেকে ৯০০,০০০ ইয়েনের মধ্যে (প্রায় ৫.৫ থেকে ৭ লাখ টাকা, রেট অনুযায়ী বদলায়)। এর মধ্যে অ্যাডমিশন ফি, টিউশন আর সুবিধা-সহায়ক খরচ থাকে।
তবে এপ্রিল ইনটেকে অনেক স্কুল দুই বছরের প্যাকেজে ডিসকাউন্ট দেয়। মানে দ্বিতীয় বছরের টিউশন একটু কম পড়ে। অক্টোবরে সেটা কম দেখা যায়।
- এপ্রিল ইনটেক: দুই বছরের কোর্স, মোট খরচ কিছুটা কম হতে পারে
- অক্টোবর ইনটেক: দেড় বছরের কোর্স, মাসিক খরচ একটু বেশি লাগতে পারে
- থাকার খরচ: টোকিওতে মাসে ৬০,০০০-৯০,০০০ ইয়েন, ওসাকা বা ফুকুওকায় ৪০,০০০-৬০,০০০ ইয়েন
আমার পরামর্শ: টোকিওর বদলে ওসাকা বা ফুকুওকা ভাবো। সেখানে থাকা-খাওয়া অনেক সস্তা, আর পার্টটাইমও পাওয়া যায়।
COE টাইমিং বাংলাদেশ: কোন মাসে কী করতে হবে
COE (Certificate of Eligibility) হলো জাপানের ইমিগ্রেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। এটা না পেলে ভিসা হয় না। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে COE-র টাইমলাইন অনেকটা এরকম:
এপ্রিল ইনটেকের জন্য
- আগস্ট-সেপ্টেম্বর: স্কুলে আবেদন
- অক্টোবর-নভেম্বর: স্কুল ইমিগ্রেশনে COE জমা দেয়
- ফেব্রুয়ারি: COE রেজাল্ট
- মার্চ: ভিসা আবেদন ও টিকিট
অক্টোবর ইনটেকের জন্য
- ফেব্রুয়ারি-মার্চ: স্কুলে আবেদন
- এপ্রিল-মে: COE জমা
- আগস্ট: COE রেজাল্ট
- সেপ্টেম্বর: ভিসা ও টিকিট
খেয়াল করো, COE টাইমিং বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫-৬ মাস আগে শুরু করতে হয়। দেরি করলে সিট পাবে না।
কোনটা আপনার জন্য ভালো? সৎ কথা
এপ্রিল ইনটেক সবার জন্য ভালো নাও হতে পারে। যদি তোমার ইংরেজি ভালো না হয়, বা HSC-র রেজাল্ট দেরিতে আসে, তাহলে অক্টোবরই ঠিক। আবার যদি তুমি দ্রুত জাপানি শিখে N2 পাস করে কাজে নামতে চাও, তাহলে এপ্রিলে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরেকটা জিনিস মনে রাখো: জাপানে পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ ভালো, কিন্তু সেটা নির্ভর করে তোমার জাপানি ভাষার লেভেলের উপর। শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না, JLPT N2 বা N1 লাগবে।
তাই সময় নিয়ে ভাবো। কারো কথায় হুট করে সিদ্ধান্ত নিও না।
HSC-র পর বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে ভাবলে জাপান একটা দুর্দান্ত অপশন। কম খরচে বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইলে জাপান বিশ্বের অন্যতম সেরা জায়গা। আর IELTS ছাড়া বিদেশে পড়াশোনা করার সুযোগ জাপানে আছে—শুধু জাপানি ভাষা শিখলেই হবে।
আরও জানতে আমাদের গাইড দেখো: HSC-র পর জাপানে পড়াশোনা, ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল বনাম ইউনিভার্সিটি, আর স্কলারশিপ পেজ।
আমি Inochi Global Education Institute-এ ছাত্রদের কাউন্সেলিং করি। আমাদের বরিশাল অফিস (নবগ্রাম রোড, মুসলিম পাড়া) থেকে অনেক ছাত্রকে জাপানে পাঠিয়েছি। তুমি চাইলে বরিশাল অফিসে আসো, চা খেতে খেতে কথা বলি। আর আমাদের জাপানে পড়াশোনার সার্ভিস সম্পর্কে জানতে পারো।
মন্তব্য
…