জাপানে এসে ১৪ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড অফিস রেজিস্ট্রেশন ও মাইনাম্বার কার্ড: খরচ ও ধাপ

জাপানে পৌঁছে ঠিকানা নথিভুক্ত করার সরকারি ফি ০ ইয়েন, অর্থাৎ বিনামূল্যে। কিন্তু সময়সীমা মাত্র ১৪ দিন। এই দুটি সংখ্যা মাথায় রাখলেই প্রথম সপ্তাহের অর্ধেক দুশ্চিন্তা কমে যায়। বাকি খরচ আসলে আসে এর পরের ধাপগুলো থেকে: স্বাস্থ্যবিমা, ছবি, যাতায়াত আর ব্যাংক।
১৪ দিনের হিসাব: কবে থেকে গোনা শুরু?
এয়ারপোর্টে নামার দিন আপনার রেসিডেন্স কার্ড (在留カード) হাতে পাবেন, নারিতা, হানেদা, কানসাই বা চুবুতে। সেখানে ঠিকানা তখনো বসানো থাকে না। যে দিন থেকে আপনি নতুন ঠিকানায় থাকা শুরু করেছেন, সেই দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় সিটি হল বা ওয়ার্ড অফিসে যেতে হবে। শিনজুকু, ইকেবুকুরো বা সাইতামার ওয়ারাবির মতো এলাকায় নিজের ওয়ার্ড অফিস চিনে রাখুন।
আমি ছাত্রদের বলি, ল্যান্ড করার দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেই যান। ১৪ দিন অনেক সময় মনে হয়, কিন্তু স্কুলের অরিয়েন্টেশন, সিম কার্ড, বাজার করা মিলিয়ে সময় দ্রুত চলে যায়।
কাগজপত্র: কী কী লাগবে
- রেসিডেন্স কার্ড (在留カード)
- পাসপোর্ট
- ঠিকানা লেখা কোনো কাগজ, যেমন ভাড়ার চুক্তি বা স্কুলের ডর্মের চিঠি (কিছু অফিস চায়)
- জাপানি নাম-ঠিকানা লেখা থাকলে সেটাও সঙ্গে রাখুন
ফর্মকে বলা হয় 転入届 (notification of moving in)। এটি জমা দিলে আপনার juminhyo (住民票) তৈরি হয়, যা জাপানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ঠিকানার সরকারি প্রমাণ। কর্মকর্তা আপনার রেসিডেন্স কার্ডের পেছনে নতুন ঠিকানা লিখে দেবেন। এভাবেই জাপানে residence card address update হয়, আলাদা কোনো ফি নেই।
ঠিকানা পাল্টালে আবার ১৪ দিনের নিয়ম খাটে। এক শহর থেকে অন্য শহরে গেলে পুরোনো অফিসে 転出届 আর নতুন অফিসে 転入届 দিতে হয়। এটা অনেকেই ভুলে যান।
একই কাউন্টারে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা
ঠিকানা নথিভুক্ত হলে একই ভবনে National Health Insurance enrollment করুন। এটাই সবচেয়ে বড় ঘরোয়া খরচ। ছাত্রদের প্রিমিয়াম শহরভেদে আলাদা, সাধারণত মাসে প্রায় ¥১,৫০০ থেকে ¥২,৫০০ (প্রায় ১,২০০–২,০০০ টাকা, বিনিময় হার বদলায়)। আয় কম থাকায় প্রথম বছর অনেক জায়গায় ছাড় থাকে। এই সংখ্যা আপনার ওয়ার্ডে নিজে যাচাই করুন। চিকিৎসায় আপনি দেন মোটের ৩০%।
একটা সতর্কতা: বিমার টাকা দিতে দেরি করলে ভবিষ্যতে ভিসা নবায়নে সমস্যা হতে পারে। কনভিনিয়েন্স স্টোর (লসন, সেভেন-ইলেভেন) থেকে বিল দেওয়া যায়, সময়মতো দিন।
মাইনাম্বার: নম্বর আর কার্ড আলাদা জিনিস
রেজিস্ট্রেশনের কিছুদিন পর ডাকে ১২ অঙ্কের নম্বরের নোটিস আসে। এটাই My Number। কার্ডটা আলাদা, আবেদন করতে হয়। my number card Bangladeshi student হিসেবে পেতে:
- নোটিসের সঙ্গে আসা QR কোড স্মার্টফোনে স্ক্যান করুন
- মুখের ছবি তুলুন (ফটো বুথে প্রায় ¥৭০০–১,০০০, বা ফোনেই)
- অনলাইনে আবেদন জমা দিন, অথবা ডাকে পাঠান
- ওয়ার্ড অফিস থেকে SMS বা পোস্টকার্ড এলে পাসপোর্ট, রেসিডেন্স কার্ড নিয়ে গিয়ে কার্ড নিন
কার্ড বানাতে সরকারি ফি নেই, কিন্তু আসতে সাধারণত ১–২ মাস লাগে। সময় বদলাতে পারে, তাই অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
My Number কার্ড কেন কাজে লাগে
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পার্টটাইম কাজের ট্যাক্স রেকর্ড, ডাকঘর আর কিছু অনলাইন সেবায় এটি লাগে। my number card bank account part-time job Japan নিয়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন। কাজের মালিক সাধারণত আপনার নম্বর চাইবেন। আপনি সাধারণত সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন (অনুমতিসহ), ঘণ্টায় প্রায় ¥১,১০০–১,২০০, আর ঢাকা-বরিশালের তুলনায় আয়ের হিসাব আলাদা। এই কারণেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিবেচনায় জাপান অনেক ছাত্রের কাছে বাস্তবসম্মত।
কী খরচ বাড়ায়, কী কমায়
- কমায়: প্রথম সপ্তাহেই রেজিস্ট্রেশন, সরাসরি ডর্ম, স্কুল থেকে ছবির সহায়তা
- বাড়ায়: বিমার দেরিতে জরিমানা, ভুল ছবি, বারবার অফিসে যাতায়াত (ট্রেনে ¥২০০–৫০০ প্রতিবার)
স্কলারশিপ বা ফি-ছাড়ের জন্য ভবিষ্যতে রেসিডেন্স রেকর্ড পরিষ্কার থাকা জরুরি। বিস্তারিত স্কলারশিপ পেজে দেখুন। ভাষা স্কুল না বিশ্ববিদ্যালয়, সেই সিদ্ধান্তে এই গাইডটি কাজে লাগবে, আর এইচএসসির পর পরিকল্পনার জন্য এটি।
প্রথম দিনের একটা ছোট পরামর্শ: ফোনে অফিসের ঠিকানার ম্যাপ সেভ করুন, কাউন্টারে বলুন “Tennyū-todoke onegaishimasu”। কর্মীরা সাধারণত ধৈর্য ধরে সাহায্য করেন।
আমি Inochi Global Education Institute-এর বরিশাল অফিসে (নবগ্রাম রোড, মুসলিম পাড়া) ছাত্রদের পরামর্শ দিই; অফিসের পেজ এখানে। জাপান যাওয়ার আগের ভিসা ও কাগজের ধাপে সাহায্য লাগলে আমাদের ভিসা ও COE সহায়তা দেখতে পারেন।
মন্তব্য
…