ফুকুওকায় পড়তে চান? বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের জন্য মাসে মাসে প্ল্যান ও কেন এই শহর

ফুকুওকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হলো ভর্তির আবেদন। জাপানি ভাষা স্কুলে এপ্রিলের ভর্তির জন্য সাধারণত আগের বছরের অক্টোবরের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই তারিখ মিস করলে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। সময়সীমা স্কুলভেদে আলাদা, তাই নিশ্চিত হয়ে নেবেন।
আগে বলি, কেন ফুকুওকা। আমি নিজে জাপানে থেকেছি, অনেক বাংলাদেশি স্টুডেন্টকে গাইড করেছি। টোকিও সবার নজরে থাকে, কিন্তু ফুকুওকায় গেলে বুঝবেন জীবনটা অনেক হালকা। ভাড়া কম, শহর ছোট, মানুষ আন্তরিক।
অক্টোবর: স্কুল বাছাই ও আবেদন
এই মাসেই কাগজপত্র গোছাতে হবে। ফুকুওকায় ভালো কিছু ভাষা স্কুল আছে, বেশিরভাগ হাকাতা স্টেশন ও তেনজিন এলাকার আশেপাশে। হাকাতায় থাকলে Hakata student life মানে স্টেশনেই সব পাওয়া: সুপারমার্কেট, ব্যাংক, বাস, সাবওয়ে।
লাগবে পাসপোর্ট, এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও স্পনসরের আয়ের কাগজ। দেরি হলে কী হয়? পরের ইনটেক পর্যন্ত অপেক্ষা, মাঝখানে ১২ মাস নষ্ট। শহর ও স্কুল তুলনা করতে জাপানের শহরের পাতা দেখতে পারেন।
নভেম্বর-ডিসেম্বর: খরচের হিসাব
Fukuoka vs Tokyo cost of living student তুলনা করলে ফুকুওকা সাধারণত সস্তা। শেয়ার বা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া মাসে মোটামুটি ¥30,000-¥45,000 ধরা যায়, টোকিওতে একই মানের জন্য প্রায় ¥50,000-¥65,000। এগুলো আনুমানিক, স্কুল ও এলাকাভেদে বদলায়। বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে ভাবলে এই পার্থক্য বছরে লাখ টাকার ওপরে দাঁড়ায়। বিস্তারিত হিসাব পাবেন খরচের গাইডে।
সতর্কতা: ফুকুওকায় ভাড়া কম হলেও পার্টটাইমের সুযোগ টোকিওর চেয়ে কম হতে পারে, আর ঘণ্টাপ্রতি মজুরিও সামান্য কম। ভাবনাটা তাই শুধু ভাড়া নিয়ে নয়, আয়-ব্যয় একসাথে দেখুন।
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি: COE ও ভিসা
স্কুল আবেদন গ্রহণ করলে ইমিগ্রেশনে Certificate of Eligibility (COE)-এর জন্য আবেদন করে। সাধারণত এতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। এরপর টিউশন ফি পাঠাতে হয়, তারপর দূতাবাসে স্টুডেন্ট ভিসা। COE আসতে দেরি হলে এপ্রিলের ফ্লাইট ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এই সময়ে কাগজপত্রে কোনো অসঙ্গতি রাখবেন না।
মার্চ: ফ্লাইট ও প্রথম ঠিকানা
ফুকুওকা বিমানবন্দর ডাউনটাউন থেকে সাবওয়েতে প্রায় ১০ মিনিট। হাকাতা স্টেশনে পৌঁছাতে মাত্র ৫-৬ মিনিট। আমি বহুবার বলেছি, নতুন দেশে পৌঁছে লাগেজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন বদলানো কী ক্লান্তিকর। ফুকুওকায় সেই ঝামেলা প্রায় নেই।
পৌঁছে ১৪ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড অফিসে ঠিকানা নিবন্ধন করুন। এরপর স্বাস্থ্যবীমা, ব্যাংক আর সিম। দেরি করলে আইনি সমস্যা ও পার্টটাইম শুরুতে বিলম্ব হতে পারে।
এপ্রিল-মে: ক্লাস, খাবার, প্রথম পার্টটাইম
ক্লাস শুরু। ভাষা স্কুল থেকে অনুমতি (資格外活動許可) নিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। Fukuoka part-time jobs for international students-এর মধ্যে কনভিনিয়েন্স স্টোর, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট কাজ বেশি। কিছু জাপানি না জানলে ভালো কাজ পাওয়া কঠিন, তাই আগে N5-N4 তুলে ফেলুন। আরও জানতে পার্টটাইম গাইড পড়ুন।
হালাল খাবার নিয়ে অনেক অভিভাবক চিন্তা করেন। Fukuoka halal food and mosque নিয়ে সুখবর: শহরে মসজিদ আছে, হালাল মুদি দোকানও মেলে, বিশেষ করে ফুকুওকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও কয়েকটি কেন্দ্রীয় জায়গায়। ঠিকানা ও খোলার সময় যাওয়ার আগে অনলাইনে যাচাই করে নেবেন।
জুন থেকে: শহরটাকে উপভোগ করুন
শহরের ভেতরেই নাকামাগাওয়া নদীর ধারে ইয়াতাই (খাবারের ঠেলাগাড়ি), ওহোরি পার্ক, সমুদ্রসৈকত। হাকাতা র্যামেন তো আছেই। ফেরিতে বা দ্রুত ফ্লাইটে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান যাওয়া সহজ। তবে ভ্রমণের আগে ভিসা ও পুনঃপ্রবেশের নিয়ম মিলিয়ে নিন।
জাপান নিরাপদ, ট্রেন সময়মতো চলে, মানুষ নিয়মকে সম্মান করে। রাতে একা ফিরলেও চিন্তা কম। গ্রীষ্মে গরম আর আর্দ্রতা অবশ্য আপনাকে অবাক করবে, আর জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি লেগেই থাকে।
সারা বছর: ভাষা ও স্কলারশিপ
JLPT N3 বা N2 লক্ষ্য রাখুন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় বা ভালো চাকরির পথ খোলে। বিদেশে স্কলারশিপ খুঁজলে JASSO-সহ কিছু সুযোগ আছে, তবে নিশ্চয়তা নেই, নিয়ম ও শর্ত বদলায়। স্কলারশিপের পাতায় হালনাগাদ তথ্য দেখে নিন। দৈনন্দিন জীবনের আরও টিপস পাবেন জাপানে থাকার গাইডে।
আমি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, কলেজ রোডে Inochi Global Education Institute-এর নারায়ণগঞ্জ অফিসে স্টুডেন্টদের কাউন্সেলিং করি। ফুকুওকা বা অন্য শহর নিয়ে সন্দেহ থাকলে জাপানে পড়াশোনার সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন, আমরা একসাথে পরিকল্পনা সাজাতে পারব।
মন্তব্য
…