জাপানে পড়তে চান কিন্তু আত্মীয় নেই? গ্যারান্টর কীভাবে পাবেন

গত বছর এক ছাত্র এসেছিল আমাদের অফিসে — উত্তরার ছেলে, এইচএসসি দিয়েছে, জাপানে পড়তে চায়। প্রথম প্রশ্নটাই করল, "স্যার, জাপানে আমার কেউ নেই, গ্যারান্টর কে দেবে?" আমি হেসে বললাম, তুমি একা না। বছরে যত ছাত্র জাপান যায়, তাদের বেশিরভাগেরই জাপানে কোনো আত্মীয় থাকে না। গ্যারান্টর মানে শুধু রক্তের সম্পর্ক না — এটা একটা কাগজের জিনিস, যেটা ঠিকভাবে সাজালে চলে যায়।
আগে একটা ভুল ধারণা পরিষ্কার করি। অনেকে ভাবে জাপান দূতাবাস গ্যারান্টর চায় মানে জাপানি নাগরিক চাচা-মামা লাগবে। আসলে ব্যাপারটা স্কুল আর ইমিগ্রেশনের দিকে। বেশিরভাগ ভাষা স্কুল আপনার জন্য গ্যারান্টর সেট করে দেয় বা স্কুলের পক্ষ থেকে একটা গ্যারান্টি ফর্ম সই হয়। আপনার কাজটা হলো বাকি কাগজপত্র পরিষ্কার রাখা। বিস্তারিত ধাপগুলো জাপান স্টুডেন্ট ভিসার রিকোয়ারমেন্ট গাইডে লিখেছি।
গ্যারান্টর আসলে কত ধরনের হয়
জাপানের সিস্টেমে গ্যারান্টর শব্দটা দুই জায়গায় আসে, আর এটা অনেকেই গুলিয়ে ফেলে:
- ফিনান্সিয়াল গ্যারান্টর (经费支弁者): যে আপনার টিউশন আর থাকা-খাওয়ার খরচ দেবে। এটা সাধারণত আপনার বাবা-মা বা পরিবারের কেউ। জাপানি হতে হবে না।
- ভিসার গ্যারান্টর / রেফারেন্স: স্কুল বা জাপানের কোনো ব্যক্তি যে বলে, "এই ছেলেমেয়েটা ঠিক আছে, আমি দায়িত্ব নিচ্ছি।" এখানেই স্কুল সাধারণত পাশে দাঁড়ায়।
তাই "জাপানিজ গ্যারান্টর ফর স্টুডেন্ট ভিসা" খুঁজতে গিয়ে অনেকে অযথা ঘাবড়ে যায়। আপনার ক্ষেত্রে যেটা লাগবে সেটা হলো — টাকা দেখানোর গ্যারান্টর (পরিবার) আর স্কুলের সাপোর্ট।
এই সপ্তাহে যা যা করতে পারেন
১. স্কুল বাছাই করুন যেটা গ্যারান্টি ফর্ম দেয়
সব স্কুল এক নয়। টোকিও, ওসাকা, নাগোয়ার কিছু স্কুল নিজেরাই গ্যারান্টর হিসেবে সই করে দেয়, আবার কিছু স্কুল বলে "জাপানে কেউ থাকলে নাম দাও।" আবেদন করার আগেই ইমেইলে জিজ্ঞেস করুন — "Do you provide a guarantor for the COE application?" উত্তর পেলে তবেই টাকা খরচ করুন। স্কুল বাছাই আর কোর্স নিয়ে লিখেছি ঢাকার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স গাইডে।
২. COE-র কাগজ বুঝে নিন
ভিসার আসল চাবি হলো COE — সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি। এটা ইমিগ্রেশন ইস্যু করে, স্কুল আপনার হয়ে আবেদন করে। এই ফর্মেই গ্যারান্টরের তথ্য থাকে। কী কী লাগে, COE গাইডে আলাদা করে লিখেছি।
৩. ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাজান
এখানেই বেশিরভাগ আবেদন আটকায়। জাপান দেখতে চায় গ্যারান্টরের হাতে টাকা আছে আর সেটা সন্দেহজনক না। সাধারণত ১৫–২০ লক্ষ টাকার একটা ব্যালেন্স দেখাতে হয় (স্কুল আর শহরভেদে কমবেশি হয়, তাই নিজের স্কুলের চিঠি দেখে কনফার্ম করুন)। টাকা হঠাৎ ঢুকিয়ে দিলে ইমিগ্রেশন প্রশ্ন করে — তিন-ছয় মাস আগে থেকে অ্যাকাউন্টে রাখা ভালো।
৪. জেএলপিটি শুরু করুন
গ্যারান্টরের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু N5 বা N4 থাকলে স্কুল বেশি আগ্রহ দেখায়। কারণ কম যাচাই-বাছাই লাগে। সময়সূচি জেএলপিটি গাইডে আছে।
একটা সত্যি কথা — যা অনেক এজেন্সি বলে না
জাপানে জাপানি ভাষা স্কুলে পড়তে গেলে খরচ কম না। বছরে টিউশন ৬–৮ লক্ষ yen, টোকিও হলে থাকা-খাওয়া মিলিয়ে আরও। বিদেশে পড়াশোনার খরচ ভাবলে অনেকেই জাপানকে সস্তা ভাবে — আসলে ব্যাংক স্টেটমেন্টে টাকার উৎস পরিষ্কার না হলে গ্যারান্টর যা-ই হোক, COE আটকাতে পারে। আরেকটা কথা: বিদেশে স্কলারশিপ পেলে খরচ কমে, কিন্তু গ্যারান্টরের দায়িত্ব শেষ হয় না। MEXT বা JASSO-র স্কলারশিপে গ্যারান্টরের ভূমিকা বদলায়, মুছে যায় না।
আমি প্রায়ই ছাত্রদের বলি: গ্যারান্টর খোঁজার আগে নিজের কাগজ নিজে পরিষ্কার করুন। কাগজ ঠিক থাকলে স্কুল নিজেই এগিয়ে আসে।
ভুয়া গ্যারান্টরের ফাঁদে পা দেবেন না
মাঝে মাঝে কেউ বলে, "টাকা দিলে জাপানি গ্যারান্টর জোগাড় করে দেব।" এটা বিপদ। ভুয়া গ্যারান্টর ধরা পড়লে শুধু ভিসা না — ভবিষ্যতে জাপানে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ হতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে সৎ আর সহজ রাস্তাটাই টেকে। এজেন্সির কাজ হলো পথ দেখানো, জাল কাগজ বানানো না।
তাই এই সপ্তাহে তিনটা কাজ করুন: পছন্দের স্কুলে ইমেইল করুন গ্যারান্টি নিয়ে, ব্যাংকে গিয়ে স্টেটমেন্ট আর সোর্স অফ ফান্ড ঠিক করুন, আর জেএলপিটির জন্য পড়া শুরু করুন। ছোট ছোট এই ধাপগুলোই আসলে গ্যারান্টরের সমস্যা সমাধান করে দেয়।
জাপান যাওয়ার পুরো রোডম্যাপ একসাথে দেখতে চাইলে বাংলাদেশ থেকে জাপানে পড়াশোনার গাইডটা পড়ে ফেলুন। আমি ইনোকি গ্লোবাল এডুকেশন ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের কাউন্সেল করি — আমাদের ঢাকার উত্তর বাড্ডা, প্রগতি সরণির অফিস জাপান দূতাবাস থেকে ১৩ মিনিটের হাঁটা পথ, কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি বসে কথা বলা যায়। আপনার স্কুল আর গ্যারান্টর পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের জাপানে পড়াশোনার সাপোর্ট সার্ভিস থেকে শুরু করতে পারেন — একটা ফোন বা ভিজিট, ব্যস।
মন্তব্য
…