জাপানে থাকা সন্তানকে কি রোজ ফোন করা যায়? বাবা-মায়ের ৫টা ভুল ধারণা

সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা: "ছেলে বা মেয়ে এত দূরে চলে গেলে আর আগের মতো কথা হবে না, মাসে এক-দুবার ফোন হলেই ভাগ্য।" সত্যিটা ঠিক উল্টো। আমি যত পরিবারকে দেখেছি, তাদের বেশিরভাগ জাপানে যাওয়ার পর ঢাকায় থাকার সময়ের চেয়েও বেশি নিয়মিত কথা বলে। কারণ জাপানে ইন্টারনেট দ্রুত, ওয়াইফাই প্রায় সব ডর্মে আছে, আর ভিডিও কল এখন পানির মতো সস্তা।
তবে কয়েকটা ছোট জিনিস আগে থেকে জানা থাকলে দুশ্চিন্তা অনেক কমে যায়। চলুন একে একে দেখি।
Myth: সময়ের ফারাকের কারণে কথা বলার সময়ই পাওয়া যাবে না
বাংলাদেশ আর জাপানের মধ্যে ফারাক মাত্র তিন ঘণ্টা। জাপান এগিয়ে। অর্থাৎ ঢাকায় সন্ধ্যা ৭টা মানে টোকিও, ওসাকা বা ফুকুওকায় রাত ১০টা। জাপানে ডে-লাইট সেভিংও নেই, তাই ফারাকটা সারা বছর একই থাকে।
ইউরোপ বা আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করলে এটা প্রায় কিছুই না। Best time to call Japan from Bangladesh নিয়ে আমার সাধারণ পরামর্শ: ঢাকার সকাল ৬-৭টা (জাপানে ৯-১০টা, সাধারণত ক্লাসের আগে বা ছুটির দিনে) অথবা ঢাকার রাত ৭-৯টা (জাপানে রাত ১০-১২টা)। ক্লাস আর পার্টটাইমের শিফট থাকলে মাঝের সময়টা কঠিন, কিন্তু সকাল ও রাত দুটোই বেশ ভালো কাজ করে।
Myth: WhatsApp আর IMO-র মধ্যে IMO-ই বাবা-মায়ের জন্য সহজ, তাই ওটাই যথেষ্ট
অনেক বাবা-মা IMO-তে স্বচ্ছন্দ, সেটা ঠিক। কিন্তু WhatsApp vs IMO call from Japan তুলনায় আমার অভিজ্ঞতা হলো: জাপানে ভিডিও কোয়ালিটি আর স্থিতিশীলতায় WhatsApp সাধারণত ভালো, আর স্টুডেন্টরা পার্টটাইমের গ্রুপ, স্কুলের নোটিশ, বন্ধুদের সঙ্গে সবই WhatsApp বা LINE-এ রাখে। IMO দুর্বল নেটওয়ার্কে ভালো চলে, তাই বাংলাদেশের দিকে নেট খারাপ থাকলে ব্যাকআপ হিসেবে দারুণ।
আমার পরামর্শ: দুটোই ফোনে রাখুন। প্রধান অ্যাপ ঠিক করুন, আর নেট গোলমাল করলে অন্যটায় যান। এটা আগেই ছেলেমেয়ের সঙ্গে ঠিক করে নিলে রাতের বেলা "কল ধরছে না কেন" ভেবে হাত-পা ঠান্ডা হবে না।
Myth: জাপানে কল করলে অনেক খরচ, ডেটা প্ল্যান খুব দামি
অ্যাপ-কল আসলে ডেটা দিয়ে চলে, মিনিটের হিসাবে বিল আসে না। ডর্মে বা শেয়ার-হাউসে ওয়াইফাই থাকলে খরচ প্রায় শূন্য। নিজের মোবাইল প্ল্যানের ক্ষেত্রে Japan SIM data plan for video calls দেখলে Rakuten Mobile, Mineo, IIJmio বা LINEMO-র মতো ছোট কোম্পানিতে মাসে প্রায় ১,০০০-৩,০০০ ইয়েনে ২০ জিবি বা তার কাছাকাছি পাওয়া যায়। অঙ্কটা আনুমানিক, সময়ে বদলায়, তাই যাওয়ার পর অফিসিয়াল সাইটে মিলিয়ে নিন।
একটা সতর্কতা: SIM নিতে অনেক সময় রেসিডেন্স কার্ড আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগে। প্রথম এক-দুই সপ্তাহ এয়ারপোর্ট SIM বা পকেট ওয়াইফাই দিয়ে চালাতে হতে পারে, তখন কল কম হবে। আগে থেকে পরিবারকে বলে রাখুন, নইলে প্রথম সপ্তাহের নীরবতা ভয় ধরিয়ে দেয়।
Myth: রোজ কল করলে সন্তান স্বাধীন হতে পারবে না, আবার না করলে সে একা হয়ে যাবে
দুটো ধারণাই অর্ধেক ঠিক। সমাধান হলো একটা সহজ family check-in routine abroad student বানানো। যেমন: প্রতিদিন একটা ছোট মেসেজ ("খেয়েছি, ক্লাস শেষ"), সপ্তাহে দুই-তিনবার ১৫ মিনিটের ভিডিও কল, আর রবিবার রাতে একটু লম্বা গল্প। কথা শুধু "পড়ছিস তো?" নিয়ে হলে কয়েক মাসেই সন্তান ক্লান্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করুন আজ কী খেয়েছে, কোন স্টেশনে নেমেছে, বৃষ্টি হচ্ছে কি না।
প্রথম ছয় মাসে মন খারাপ খুব স্বাভাবিক। জাপানে শীত, নতুন ভাষা, একা রান্না, সবই একসঙ্গে আসে। সেই সময় রুটিনটাই তার নোঙর। তবে বেশি চাপ দেবেন না। পরীক্ষার সপ্তাহ বা দীর্ঘ শিফটের পর সে ছোট উত্তর দিলে বুঝে নিন।
Myth: এত দূরে সন্তান নিরাপদ থাকবে কি না, সেটা জানার উপায় নেই
জাপান নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় কথা এটাই। রাত ১১টায় ট্রেন থেকে নেমে একা হাঁটা, কনভিনিয়েন্স স্টোরে মানিব্যাগ ফেলে এলে পরদিন সেটা ফেরত পাওয়া, এগুলো সেখানে অস্বাভাবিক নয়। পরিষ্কার স্টেশন, সময়মতো ট্রেন, ২৪ ঘণ্টা খোলা Lawson, FamilyMart, আর ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা ফোনেই আসে। শহর বা এলাকাভেদে অবশ্য জীবনযাত্রা আলাদা, তুলনার জন্য জাপানের শহরগুলো দেখে নিতে পারেন।
তবুও কিছু বাস্তবতা আছে। ভূমিকম্প আর টাইফুন আছে, আর পার্টটাইমের সময়সীমা (সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা) না মানলে ভিসা ঝুঁকিতে পড়ে। বিস্তারিত পাবেন পার্টটাইম জবের গাইডে। সন্তানকে জরুরি নম্বর (১১০ পুলিশ, ১১৯ অ্যাম্বুলেন্স) আর স্কুলের অফিসের নম্বর ফোনে সেভ করতে বলুন।
Myth: জাপান দামি, তাই চিন্তা শুধু বাড়বে
অনেকে cheapest country to study abroad খুঁজতে গিয়ে জাপানকে বাদ দেন, কিন্তু study abroad cost from Bangladesh হিসাব করলে ভাষাস্কুল থেকে শুরু করে পার্টটাইম আয় আর স্কলারশিপের সুযোগ মিলিয়ে অনেক পরিবারের কাছে জাপান ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে সামলানো যায়। ফি ও বাসাভাড়া আনুমানিক, তাই খরচের গাইডটা দেখে স্কুলের সর্বশেষ তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি আছে জাপানে থাকার গাইডে।
শেষ কথা: দূরত্ব আছে, কিন্তু যোগাযোগ কঠিন নয়। আজই ঠিক করুন কোন সময়ে কথা হবে, কোন অ্যাপে, আর কেউ উত্তর না দিলে কী করবেন।
আমি Inochi Global Education Institute-এর নারায়ণগঞ্জ (চাষাড়া, কলেজ রোড) অফিসে স্টুডেন্টদের কাউন্সেলিং করি। জাপানে পৌঁছানোর পর SIM, ঠিকানা, ব্যাংক আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের শুরুর ধাপে সাহায্য লাগলে আমাদের পৌঁছানোর পরের সহায়তা সেবা দেখতে পারেন।
মন্তব্য
…