মূল কনটেন্টে যান

স্টাডি গাইড

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে স্কলারশিপ (২০২৬-২০২৭): MEXT, JASSO ও টিউশন ছাড়, সহজ ভাষায়

奨学金

একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাপানে আসলে কোন কোন স্কলারশিপ পেতে পারেন?

স্কলারশিপ দুই ধরনের, আর দুটো একেবারে আলাদা। প্রথম ধরনটা বাংলাদেশ থেকেই, যাওয়ার আগে আবেদন করতে হয়: MEXT স্কলারশিপ, জাপান দূতাবাস অথবা কোনো জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। দ্বিতীয় ধরনটা নিজ খরচে জাপানে পড়া শুরুর পর আবেদন করা যায়: JASSO-র Honors Scholarship, স্কুলের নিজস্ব স্কলারশিপ ও টিউশন ছাড়, আর স্থানীয় সরকার বা প্রাইভেট ফাউন্ডেশনের বৃত্তি। JASSO-র Study in Japan পোর্টাল পরিষ্কার বলে: বেশিরভাগ স্কলারশিপ পাওয়া যায় জাপানে আসার পরে।

স্কলারশিপকার জন্যমাসিক পরিমাণকোথা থেকে আবেদন
MEXT, দূতাবাস সুপারিশমাস্টার্স/পিএইচডি রিসার্চ, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, কলেজ অব টেকনোলজি (KOSEN), স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজ১,১৭,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ ইয়েন + টিউশন মওকুফ + বিমান টিকিটবাংলাদেশ (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি, দূতাবাসের পরীক্ষা)
MEXT, বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশমূলত মাস্টার্স/পিএইচডি আবেদনকারী, যাদের MEXT কোটা থাকা জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করেউপরের মতোই MEXT হারসরাসরি জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে
JASSO Honors Scholarshipজাপানে ইতিমধ্যে ভর্তি নিজ খরচের শিক্ষার্থী, ভালো রেজাল্ট ও আর্থিক প্রয়োজন থাকলে৩০,০০০ ইয়েন (ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট) / ৪৮,০০০ ইয়েন (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়)জাপানে নিজের স্কুলের মাধ্যমে
স্কুলের স্কলারশিপ ও টিউশন ছাড়ওই স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাধারণত রেজাল্ট ও উপস্থিতির ভিত্তিতেস্কুলভেদে ভিন্ন (আংশিক ছাড়ই সবচেয়ে বেশি)স্কুল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভর্তির পরে
স্থানীয় সরকার ও প্রাইভেট ফাউন্ডেশনের বৃত্তিনির্দিষ্ট এলাকায় থাকা বা পড়া, নির্দিষ্ট বিষয়ের, বা নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীফাউন্ডেশনভেদে ভিন্নবেশিরভাগ জাপান থেকে, প্রায়ই স্কুলের মাধ্যমে

MEXT দূতাবাস সুপারিশ: ক্যাটাগরি, যোগ্যতা ও মাসিক ভাতা

দূতাবাস সুপারিশ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জাপান দূতাবাস প্রার্থী সংগ্রহ করে ও প্রথম বাছাই করে। বাংলাদেশ থেকে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরাই আবেদন করতে পারেন। নিচের সংখ্যাগুলো ২০২৭ সালে ভর্তির জন্য MEXT-এর অফিসিয়াল আবেদন নির্দেশিকা থেকে নেওয়া। MEXT জানায়, সরকারি বাজেট অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে পরিমাণ বদলাতে পারে, আর কিছু নির্ধারিত এলাকায় মাসে ২,০০০ বা ৩,০০০ ইয়েন আঞ্চলিক ভাতা যোগ হয়।

ক্যাটাগরিজন্ম (এই তারিখ বা পরে)লিখিত পরীক্ষা (দূতাবাস)মাসিক ভাতামেয়াদ
রিসার্চ স্টুডেন্ট (মাস্টার্স, পিএইচডি; ব্যাচেলর ডিগ্রি বা ১৬ বছরের শিক্ষা লাগবে)২ এপ্রিল ১৯৯২জাপানি ও ইংরেজি১,৪৩,০০০ ইয়েন (নন-রেগুলার/প্রস্তুতিমূলক), ১,৪৪,০০০ ইয়েন (মাস্টার্স), ১,৪৫,০০০ ইয়েন (ডক্টরাল)নন-রেগুলার হিসেবে মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত, অনুমোদন পেলে ডিগ্রি কোর্সের জন্য বাড়ানো যায়
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (১২ বছরের পড়াশোনা; মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে HSC শেষ হলে আবেদন করা যায়)২ এপ্রিল ২০০২মানবিক/সামাজিক বিজ্ঞান: জাপানি, ইংরেজি, গণিত। বিজ্ঞান: জাপানি, ইংরেজি, গণিত, সাথে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান অথবা রসায়ন ও জীববিজ্ঞান১,১৭,০০০ ইয়েন৫ বছর, ১ বছরের প্রস্তুতিমূলক কোর্সসহ (মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি, ভেটেরিনারি, ৬ বছরের ফার্মেসিতে ৭ বছর)
কলেজ অব টেকনোলজি, KOSEN (১১ বছরের পড়াশোনা)২ এপ্রিল ২০০২জাপানি, ইংরেজি, গণিত, আর রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞান১,১৭,০০০ ইয়েনপ্রায় ৪ বছর, জাপানি প্রস্তুতিমূলক কোর্সসহ; ৩য় বর্ষ থেকে ভর্তি
স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজ (১২ বছরের পড়াশোনা)২ এপ্রিল ২০০২জাপানি, ইংরেজি, গণিত১,১৭,০০০ ইয়েনপ্রায় ৩ বছর, জাপানি প্রস্তুতিমূলক কোর্সসহ
  • যা কভার হয়: মাসিক ভাতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ভর্তি ও টিউশন ফি (মওকুফ), আর শুরুতে জাপানে যাওয়া ও শেষে দেশে ফেরার ইকোনমি বিমান টিকিট।
  • যা কভার হয় না: বাড়ি থেকে ঢাকা এয়ারপোর্ট যাতায়াত, এয়ারপোর্ট ট্যাক্স, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, অতিরিক্ত ব্যাগেজ আর জাপানের ভেতরে যাতায়াত।
  • রেজাল্টের নির্দেশনা: দূতাবাসের বাংলাদেশ পেজে ন্যূনতম হিসেবে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে SSC ও HSC দুটোতেই GPA 5, মানবিকে GPA 4.5, আর রিসার্চ স্টুডেন্টের ক্ষেত্রে সব পর্যায়ে ফার্স্ট ক্লাস উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি বছরের সার্কুলার অবশ্যই মিলিয়ে নিন।
  • স্কলারশিপ শুরুর আগে যদি নিজ খরচে জাপানে ইতিমধ্যে ভর্তি থাকেন বা ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করা যায় না। জাপানে ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে পড়া অবস্থায় হঠাৎ দূতাবাসের পথে চলে আসা যায় না।

MEXT-এর Teacher Training ও Japanese Studies নামে আরও দুটি ক্যাটাগরি আছে। Teacher Training কয়েক বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মরত স্কুল শিক্ষকদের জন্য, আলাদা সময়সূচিতে চলে; Japanese Studies জাপান-বিষয়ক বিষয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এক বছরের প্রোগ্রাম, যা দূতাবাসের বাংলাদেশ পেজে তালিকাভুক্ত নেই। এগুলোর কোনোটিতে মানানসই মনে হলে দূতাবাসে জিজ্ঞেস করুন।

বাংলাদেশে MEXT কবে খোলে, আর রেজাল্ট কবে দেয়?

বাংলাদেশে দূতাবাস পথের সব ক্যাটাগরি জাপান দূতাবাসের প্রকাশিত একই বার্ষিক সময়সূচি মেনে চলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদনের সময় খুব কম থাকে, প্রায়ই মাত্র দুই সপ্তাহের মতো, তাই মার্চ থেকেই মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।

  1. এপ্রিল: বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
  2. মে: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা; মন্ত্রণালয় দূতাবাসের জন্য প্রার্থী বাছাই করে।
  3. জুন-জুলাই: দূতাবাসে লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ।
  4. জুলাই: দূতাবাসের প্রাথমিক নির্বাচন (প্রথম বাছাইয়ের ফল)। এরপর রিসার্চ স্টুডেন্টরা জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে provisional acceptance letter নিতে যোগাযোগ করেন।
  5. ডিসেম্বর-জানুয়ারি: জাপানে MEXT-এর চূড়ান্ত নির্বাচন, তারপর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ।
  6. মার্চ: ওরিয়েন্টেশন ও ভিসা আবেদন। এপ্রিল বা সেপ্টেম্বর/অক্টোবর: জাপানে যাত্রা।

অর্থাৎ ২০২৭ সালে ভর্তির জন্য ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, আর চূড়ান্ত রেজাল্ট আশা করা যায় ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে। এবার যদি মিস করে থাকেন, পরের বাস্তব লক্ষ্য ২০২৮ সালে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, যা আশা করা যায় এপ্রিল ২০২৭-এর দিকে। কয়েক বছরের MEXT প্রশ্নপত্র উত্তরসহ Study in Japan ওয়েবসাইটে ফ্রি পাওয়া যায়: সময় ধরে, ক্যালকুলেটর ছাড়া অনুশীলন করুন, কারণ পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর নিষেধ।

বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশে MEXT: মাস্টার্স ও পিএইচডির পথ

বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশ পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয় সরাসরি জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে, দূতাবাসে নয়। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করে নির্বাচিতদের MEXT-এর কাছে সুপারিশ করে, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় MEXT। শুধু MEXT অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ই সুপারিশ করতে পারে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা নেই, আর যোগ্যতা ও ডেডলাইন প্রতিটির নিজস্ব। দূতাবাস জানায়, এসব আবেদন সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হয়ে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়, জুনের শেষে MEXT নির্বাচন করে, আর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সেপ্টেম্বরের শেষে জাপানে পৌঁছান।

  • সবচেয়ে উপযোগী: ভালো CGPA, পরিষ্কার রিসার্চ টপিক, আর জাপানে এমন একজন প্রফেসর যার কাজ আপনার বিষয়ের সাথে মেলে।
  • এর অনেকগুলোই ইংরেজি-মাধ্যম গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম, তাই জাপানির মতোই ইংরেজি দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।
  • প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের international admissions পেজে 'MEXT university recommendation' বা 'Japanese Government Scholarship, university recommendation' লিখে খুঁজুন, আর তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা পড়ুন।
  • একই বছরে দুই পথের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, কিন্তু MEXT একসাথে দুটি MEXT প্রোগ্রামে আবেদনের অনুমতি দেয় না, তাই দ্বিতীয় আবেদন জমার আগে নিয়ম দেখে নিন।

জাপানে যাওয়ার পরের স্কলারশিপ: JASSO, স্কুলের ছাড় ও ফাউন্ডেশন বৃত্তি

বেশিরভাগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিজ খরচে জাপানে যান, সাধারণত জাপানি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের মাধ্যমে। তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপগুলো আসে পরে, আর প্রায় সবগুলোতেই আবেদন হয় স্কুলের মাধ্যমে, ব্যক্তিগতভাবে নয়।

  • JASSO Honors Scholarship (Monbukagakusho Honors Scholarship for Privately Financed International Students): জাপানি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে মাসে ৩০,০০০ ইয়েন আর বিশ্ববিদ্যালয় বা গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ৪৮,০০০ ইয়েন, ১২ মাস (এপ্রিল-মার্চ) বা ৬ মাসের (অক্টোবর-মার্চ) জন্য। ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির লক্ষ্য থাকতে হবে। Student স্ট্যাটাস, ভালো রেজাল্ট ও আর্থিক প্রয়োজন থাকতে হবে, আর স্কুলকে সুপারিশ করতে হবে; প্রতিটি স্কুলের কোটা নির্ভর করে তার বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার উপর।
  • জাপানে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে JASSO স্কলারশিপে আবেদন করলে অন্যান্য শর্তের পাশাপাশি আগের বছরের GPA কমপক্ষে ২.৩০, আর JLPT N2, বা EJU জাপানিতে ২০০ বা বেশি, বা CEFR B2 মানের ইংরেজি লাগে।
  • স্কুলের স্কলারশিপ ও টিউশন ছাড়: অনেক ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভালো উপস্থিতি, রেজাল্ট বা JLPT ফলের জন্য আংশিক টিউশন ছাড় বা এককালীন পুরস্কার দেয়। স্কুল বাছাইয়ের আগেই তাদের লিখিত স্কলারশিপ নিয়ম চেয়ে নিন। JASSO-র Study in Japan সাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ ও টিউশন ছাড় খোঁজার টুল আছে।
  • স্থানীয় সরকার ও প্রাইভেট ফাউন্ডেশন: কিছু প্রিফেকচার, শহর ও কোম্পানির ফাউন্ডেশন তাদের এলাকায় থাকা বা পড়া, নির্দিষ্ট বিষয়ের, বা নির্দিষ্ট দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়। খুব কমই জাপানে আসার আগে আবেদন নেয়; বেশিরভাগে জাপানে গিয়ে স্কুলের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

জাপানে কি 'ফুল ফ্রি স্কলারশিপ' আছে?

আছে, তবে বেশিরভাগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য আসল বিকল্প একটাই: MEXT। এটা টিউশন, মাসিক ভাতা ও বিমান টিকিট দেয়, তাই 'ফুল ফ্রি'-র সবচেয়ে কাছাকাছি। প্রতিযোগিতাও খুব বেশি: মন্ত্রণালয় সীমিত সংখ্যক প্রার্থী বাছাই করে, দূতাবাস তাদের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ নেয়, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জাপানে MEXT। ভালো শিক্ষার্থীর অবশ্যই আবেদন করা উচিত, কিন্তু শুধু এটা পাওয়ার আশায় পুরো পারিবারিক পরিকল্পনা সাজানো ঠিক নয়।

ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের পথ প্রায় সবসময় নিজ খরচে শুরু হয়: ভিসার আগেই প্রথম বছরের টিউশন ও স্পনসরের ব্যাংক ডকুমেন্ট লাগে। JASSO-র মাসে ৩০,০০০ ইয়েন বা স্কুলের ছাড়ের মতো স্কলারশিপ পরে সাহায্য করে, কিন্তু প্রথম বছরের বাজেটের বিকল্প নয়।

প্রতারণা সতর্কতা: MEXT স্কলারশিপ কেউ বিক্রি, গ্যারান্টি বা 'ম্যানেজ' করতে পারে না। কোনো এজেন্ট কোটা নেই, কোনো 'দূতাবাসের লোক' নেই। কেউ MEXT নিশ্চিত করার জন্য টাকা চাইলে, বা 'ফুল ফ্রি স্কলারশিপ প্যাকেজ' বলে আবার বড় অঙ্কের টাকা চাইলে, সরে আসুন ও রিপোর্ট করুন। MEXT-এ আবেদন করতে কোনো টাকা লাগে না।

শক্তিশালী MEXT আবেদন কীভাবে তৈরি করবেন

  1. আগে রেজাল্ট: SSC, HSC ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট যত সম্ভব ভালো রাখুন। ডকুমেন্টই প্রথম ছাঁকনি।
  2. পুরনো প্রশ্ন অনুশীলন: অফিসিয়াল MEXT প্রশ্নপত্র ও উত্তর ডাউনলোড করে সময় ধরে প্র্যাকটিস করুন, বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত।
  3. আগেই জাপানি শুরু করুন: জাপানি পরীক্ষা সবাইকে দিতে হয়। JLPT N5 বা N4 বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু আগ্রহ প্রমাণ করে, আর ইন্টারভিউ ও প্রস্তুতিমূলক বছর সহজ করে।
  4. রিসার্চ স্টুডেন্ট: সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত রিসার্চ প্ল্যান লিখুন, আর যাদের অধীনে পড়তে চান সেই প্রফেসরদের কাজ পড়ুন। provisional acceptance letter চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে।
  5. ইন্টারভিউর প্রস্তুতি: কেন জাপান, কেন এই বিষয়, আর বাংলাদেশে কীভাবে কাজে লাগাবেন: পরিষ্কার ইংরেজিতে (আর একটু জাপানিতে) বলতে পারা চাই।
  6. এপ্রিলের আগেই ডকুমেন্ট তৈরি রাখুন: সত্যায়িত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট, পাসপোর্ট বা NID, যেন অল্প সময়ের মধ্যেই জমা দিতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

MEXT স্কলারশিপে মাসে কত টাকা ভাতা দেয়?

২০২৭ সালে ভর্তির জন্য: প্রস্তুতিমূলক বা নন-রেগুলার রিসার্চ স্টুডেন্ট মাসে ১,৪৩,০০০ ইয়েন, মাস্টার্সে ১,৪৪,০০০ ইয়েন, ডক্টরালে ১,৪৫,০০০ ইয়েন; আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, কলেজ অব টেকনোলজি ও স্পেশালাইজড ট্রেনিংয়ে ১,১৭,০০০ ইয়েন। টিউশন মওকুফ আর ইকোনমি বিমান টিকিট দেওয়া হয়। MEXT জানায়, প্রতি অর্থবছরে পরিমাণ বদলাতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য MEXT স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি কবে দেয়?

সাধারণত এপ্রিলের দিকে, বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে; মে মাসে আবেদন, জুন-জুলাইয়ে দূতাবাসের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ, আর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে MEXT-এর চূড়ান্ত নির্বাচন। ২০২৮ সালে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি আশা করা যায় এপ্রিল ২০২৭-এর দিকে।

মাস্টার্সের জন্য কি MEXT স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, রিসার্চ স্টুডেন্ট হিসেবে, দূতাবাসের পথে অথবা MEXT সুপারিশ কোটা থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। ব্যাচেলর ডিগ্রি বা ১৬ বছরের শিক্ষা লাগবে, ২০২৭ সালে ভর্তির জন্য জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৯২ বা তার পরে হতে হবে, আর লাগবে শক্তিশালী রিসার্চ প্ল্যান ও ভালো রেজাল্ট।

HSC-র পরপরই কি MEXT-এ আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে যারা ভর্তির বছরের মার্চের মধ্যে ১২ বছরের পড়াশোনা শেষ করবেন তারাও আবেদন করতে পারেন, তাই HSC পরীক্ষার্থীরাও যোগ্য। ২০২৭ সালে ভর্তির জন্য জন্ম ২ এপ্রিল ২০০২ বা তার পরে হতে হবে, আর জাপানি, ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞানে দুটি বিজ্ঞান বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়।

জাপানে ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের শিক্ষার্থীরা কি স্কলারশিপ পান?

হ্যাঁ, তবে ছোট অঙ্কের। JASSO Honors Scholarship উচ্চশিক্ষায় যেতে চাওয়া নির্বাচিত ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের স্কুলের সুপারিশে মাসে ৩০,০০০ ইয়েন দেয়। অনেক স্কুল উপস্থিতি ও রেজাল্টের জন্য আংশিক টিউশন ছাড়ও দেয়। এগুলো সাহায্য করে, কিন্তু প্রথম বছরের খরচ কভার করে না।

টাকার বিনিময়ে কোনো এজেন্সি কি MEXT স্কলারশিপ করিয়ে দিতে পারে?

না। MEXT নির্বাচন হয় শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাছাই, জাপান দূতাবাসের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ, জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় আর MEXT-এর মাধ্যমে। টাকার বিনিময়ে MEXT-এর গ্যারান্টি দিলে সেটা প্রতারণা। একজন কাউন্সেলর শুধু প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারেন: ডকুমেন্ট, জাপানি ভাষা, ইন্টারভিউ অনুশীলন।

Official source

নিয়ম ও ফি বদলায়: কোনো সিদ্ধান্তের আগে official source বা Inochi কাউন্সেলরের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

ফ্রিতে যাচাই করুন আপনার স্কলারশিপের সম্ভাবনা

Inochi-তে ফ্রি কাউন্সেলিং বুক করুন। আপনার রেজাল্ট, বয়স ও লক্ষ্য দেখে সৎভাবে জানাব কোন কোন স্কলারশিপে বাস্তবে আবেদন করতে পারেন, আর পরের বিজ্ঞপ্তির আগেই জাপানি ভাষা ও ডকুমেন্টের পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করব: সব বাংলায়।

এই গাইড লেখার সময়কার জাপান সরকার ও প্রতিষ্ঠানের official source-ভিত্তিক সাধারণ তথ্য; এটি আইনি বা immigration পরামর্শ নয়। Immigration নিয়ম, ফি ও exchange rate বদলায়: সর্বশেষ requirement ঢাকার জাপান দূতাবাস, স্কুল বা Inochi কাউন্সেলরের কাছে নিশ্চিত করুন।

সম্পর্কিত গাইড

4 মিনিটের পড়া

বাংলাদেশ থেকে জাপানে পড়াশোনার খরচ (২০২৬): টাকায় পূর্ণ হিসাব

টিউশন, এজেন্সি ও সরকারি ফি, শহরভেদে জীবনযাত্রার খরচ, পার্ট-টাইম কাজে কতটা কভার হয়, স্পনসরকে কী দেখাতে হয়: একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জাপানে পড়ার মোট খরচের সৎ, আইটেম-ভিত্তিক হিসাব।

গাইড পড়ুন
4 মিনিটের পড়া

HSC, আলিম, ডিপ্লোমা বা অনার্সের পর জাপানে পড়াশোনা: কোন পথ আপনার জন্য

প্রতিটি বাংলাদেশি যোগ্যতার জন্য পথ ধরে পরামর্শ: কোথায় আবেদন করতে পারবেন, কতটা জাপানি লাগবে, বয়স ও স্টাডি গ্যাপের বাস্তবতা, আর HSC শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ মাসের পরিকল্পনা।

গাইড পড়ুন
4 মিনিটের পড়া

জাপানি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল vs বিশ্ববিদ্যালয় vs সেনমন গাক্কো: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোনটা বাছবেন?

জাপানে পড়ার তিনটি পথের পাশাপাশি তুলনা, ভর্তির যোগ্যতা, জাপানি লেভেল, খরচ, সময়কাল, পরে কী করা যায়, আর বেশিরভাগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যে বাস্তবসম্মত ধারাবাহিকতা অনুসরণ করেন।

গাইড পড়ুন

এই বিষয়ে সাম্প্রতিক লেখা

সব লেখা

শেয়ার করুন

Free counseling

ফ্রি কাউন্সেলিং বুক করুন

একজন কাউন্সেলর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন।

+81 80-4777-1677