মূল কনটেন্টে যান

স্টাডি গাইড

বাংলাদেশ থেকে জাপান যাওয়ার উপায় ও খরচ (২০২৬): কোন পথে কত টাকা লাগে

日本への道

বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে কত টাকা লাগে? সব পথ এক নজরে

জাপানে এমন কোনো সাধারণ 'লেবার ভিসা' নেই যা টাকা দিয়ে কেনা যায়। বৈধভাবে যাওয়ার পথ মাত্র কয়েকটা: পড়াশোনা, Specified Skilled Worker, টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (যা Employment for Skill Development দিয়ে বদলে যাচ্ছে), অথবা ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হিসেবে চাকরির অফার নিয়ে। নিচের প্রতিটি অঙ্ক অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত একটা আনুমানিক হিসাব, সরকারি ফি আর বাজারের সাধারণ দাম ধরে; আপনার আসল অঙ্ক নির্ভর করবে স্কুল, কোম্পানি আর শহরের উপর।

পথবাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক খরচ (আনুমানিক)কতটা জাপানি লাগেযেতে কত সময়পরিবার / স্থায়ী বসবাস
স্টুডেন্ট (ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল)৯–১১ লাখ টাকা + বিমান টিকিটN5 লেভেলের পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা স্কুলের ইন্টারভিউ (বেশিরভাগ স্কুল ইন্টারভিউ নেয়)৯–১২ মাসল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে পরিবার নয়; পরে ওয়ার্ক ভিসা হয়ে PR সম্ভব
SSW-1 (特定技能1号)প্রায় ২–৪ লাখ টাকাJFT-Basic A2 বা JLPT N4 + স্কিল টেস্টপ্রায় ৮–১৫ মাসSSW-1-এ পরিবার নয় (সর্বোচ্চ ৫ বছর); SSW-2-তে পরিবার আনা যায়, নবায়নযোগ্য
টেকনিক্যাল ইন্টার্ন / Employment for Skill Development (বোয়েসেল বা অনুমোদিত সেন্ডিং অর্গানাইজেশন)বোয়েসেলের উদাহরণ: ৫৬,৩৫০ টাকা + ট্রেনিং ও কাগজপত্র; এপ্রিল ২০২৭ থেকে সর্বোচ্চ ২ মাসের মূল বেতনসাম্প্রতিক বোয়েসেল সার্কুলারে N4/JFT-Basic; নতুন পদ্ধতিতে ন্যূনতম A1প্রায় ৬–১২ মাসপরিবার নয়; সামনে এগোনোর পথ হলো SSW-তে যাওয়া
Engineer / Specialist in Humanities / International Servicesটিকিট + কাগজপত্র, সরাসরি চাকরি পেলে মোটামুটি ১–১.৫ লাখ টাকাআইনে ন্যূনতম নেই; কোম্পানি সাধারণত N3–N2 চায়চাকরির অফারের উপর নির্ভর; COE সাধারণত ১–৩ মাসস্ত্রী/স্বামী ও সন্তান আনা যায়; প্রায় ১০ বছরে PR (পয়েন্টে আরও দ্রুত)

কাগজে যে পথ সবচেয়ে সস্তা, জীবনে সেটা সবসময় সস্তা নয়। SSW আর ইন্টার্ন চাকরিতে শুরুর খরচ কম, কিন্তু একটা খাতে বাঁধা আর শুরুতে পরিবার আনা যায় না; স্টুডেন্ট পথে খরচ সবচেয়ে বেশি, কিন্তু ডিগ্রি, সীমাহীন ওয়ার্ক ভিসা আর স্থায়ী বসবাসের রাস্তা খোলে। বিস্তারিত তুলনার জন্য আমাদের স্টুডেন্ট vs SSW vs ওয়ার্ক ভিসা গাইডটা পড়ুন।

পথ ১: জাপানি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসা

বাংলাদেশিদের জাপান যাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথ এটাই, আর একমাত্র পথ যেখানে চাকরির অফার বা স্কিল টেস্ট লাগে না। HSC / আলিম / ডিপ্লোমা পাস (বা গ্র্যাজুয়েট), বয়স মোটামুটি ২৮-এর নিচে, আর পরিবার প্রথম বছরের খরচ দিতে ও স্পনসরের আয়-সঞ্চয় দেখাতে পারে: এমন শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত। ১–২ বছর জাপানি পড়বেন, সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন, তারপর সেনমন গাক্কো, বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরিতে যাবেন।

  • প্রথম বছরের টিউশন ও ভর্তি: প্রায় ৫.৫–৭.৫ লাখ টাকা, COE ইস্যুর পর সরাসরি স্কুলকে।
  • অ্যাপ্লিকেশন ও স্ক্রিনিং ফি, ডর্মিটরি ডিপোজিট, বাংলাদেশে জাপানি কোর্স, অনুবাদ: সব মিলিয়ে মোটামুটি ১.২–২.২ লাখ টাকা।
  • ভিসা: বাংলাদেশিদের কনস্যুলার ফি নেই; স্টাডি আবেদনে VFS নেয় ১,৯০০ টাকা। ঢাকা থেকে টোকিও/ওসাকা একমুখী টিকিট: ৬০,০০০–৯০,০০০ টাকা।
  • মোট: প্রথম বছরে প্রায় ৯–১১ লাখ টাকা, সাথে টিকিট। খাত ধরে পুরো টেবিলটা আছে আমাদের 'জাপানে পড়াশোনার খরচ' গাইডে।

পথ ২: Specified Skilled Worker (SSW / টোকুতেই গিনো): জাপানে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা খরচ হয়?

ডিগ্রি ছাড়া জাপানে কাজ করার প্রধান বৈধ পথ SSW। বয়স ১৮ বা তার বেশি হতে হবে, জাপানি পরীক্ষা (A2 লেভেলের JFT-Basic বা JLPT N4) আর আপনার খাতের স্কিল টেস্ট পাস করতে হবে, তারপর জাপানি কোম্পানির চাকরির অফার পেলে কোম্পানিই আপনার COE-র আবেদন করবে। বাংলাদেশ আর জাপান ২৭ আগস্ট ২০১৯-এ SSW Memorandum of Cooperation সই করেছে, তাই নিয়োগ হতে হবে অনুমোদিত চ্যানেলে। খাতের মধ্যে আছে কেয়ারগিভিং, ফুড সার্ভিস, কনস্ট্রাকশন, কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিল্ডিং ক্লিনিং ও হসপিটালিটি; ২০২৬-এ জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি তালিকায় লিনেন সাপ্লাই, লজিস্টিক ওয়্যারহাউজিং আর রিসোর্স সার্কুলেশনও যোগ করেছে।

SSW-র খরচের খাতটাকা (অক্টোবর ২০২৬)মন্তব্য
N4 / JFT-Basic লেভেল পর্যন্ত জাপানি কোর্সপ্রায় ৪০,০০০–৫০,০০০ (প্রাইভেট); BMET-এর TTC-তে কমBMET ৬০টি TTC/IMT-তে ৬ মাসের N5 ও N4 কোর্স চালায়
JFT-Basic পরীক্ষার ফি৩,৮০০বাংলাদেশে Prometric-এর ফি; ই-ওয়ালেটে প্রায় ২% বেশি
বাংলাদেশে হওয়া স্কিল টেস্টকেয়ারগিভিং ১,৬০০; কৃষি ২,৭০০; কনস্ট্রাকশন ৮০০অন্য খাতের পরীক্ষা এখন Prometric-এর বাংলাদেশ তালিকায় নেই
পাসপোর্ট, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অনুবাদপ্রায় ১৫,০০০–৩০,০০০ (আনুমানিক)পাসপোর্টের ধরন ও ক্লিনিক অনুযায়ী
BMET রেজিস্ট্রেশন, বহির্গমন ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড), কল্যাণ ফিসরকার-নির্ধারিত হারশুধু সরকারি রসিদের বিপরীতে দিন
ভিসাVFS চার্জ ১,৯০০; কনস্যুলার ফি নেইওয়ার্ক আবেদন COE-ভিত্তিক
বিমান টিকিট৬০,০০০–৯০,০০০অনেক কোম্পানি নিজেই দেয়: লিখিত নিন
  • বৈধ পথে মোট: জাপানি কোর্স আর চুক্তিতে লেখা এজেন্সি সার্ভিস চার্জসহ মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা।
  • বেতন একই কাজে জাপানি কর্মীর সমান হতে হবে: সাধারণত মাসে ¥১,৮০,০০০–২,৫০,০০০ (কাটার আগে)।
  • SSW নিয়মে কর্মীর কাছ থেকে জামানত নেওয়া বা জরিমানার চুক্তি করানো যায় না, আর কোম্পানিকে যে সাপোর্ট দিতে হয় তার খরচ কোম্পানির, আপনার নয়।
  • বয়সসীমা: আইনে ন্যূনতম ১৮, সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই; তবে কোম্পানির সার্কুলারে প্রায়ই ১৮–৩৫-এর মতো চাওয়া হয়।

পথ ৩: টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং আর নতুন Employment for Skill Development পদ্ধতি

সরকারি চ্যানেলে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ কর্মী জাপানে গেছেন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP)-এর মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আর জাপান ২৯ জানুয়ারি ২০১৮-এ TITP Memorandum of Cooperation সই করেছে: শুধু মন্ত্রণালয়-অনুমোদিত সেন্ডিং অর্গানাইজেশন ইন্টার্ন পাঠাতে পারবে, আর তারা জামানত হিসেবে ট্রেইনির টাকা রাখতে বা জরিমানার চুক্তি করাতে পারবে না। জাপান এখন TITP তুলে দিচ্ছে: ২০২৪ সালের ৬০ নম্বর আইন অনুযায়ী Employment for Skill Development (育成就労) পদ্ধতি চালু হবে ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে।

  • সরকারি চ্যানেলের বাস্তব উদাহরণ: নারী নার্সিং কেয়ারগিভার ইন্টার্নের জন্য বোয়েসেলের ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সার্কুলারে চাওয়া হয়েছিল ন্যূনতম SSC, JLPT N4 / JFT-Basic, বয়স ১৮–৩৫; ৩ বছরের চুক্তি, মাসে ¥১,৭৬,২৪৪ বেতন (বোয়েসেলের হিসাবে প্রায় ১,৩৬,০০০ টাকা); থাকার ব্যবস্থা কোম্পানির, তবে ইউটিলিটি বিল ও খাবার কর্মীর; যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া কোম্পানির।
  • ঐ সার্কুলারে বোয়েসেলের চার্জ: পে-অর্ডারে ৫৬,৩৫০ টাকা, যার মধ্যে সিলেকশনের আগে-পরের ট্রেনিং, ব্যবস্থাপনা, বহির্গমন ছাড়পত্র, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি, স্মার্ট কার্ড আর অগ্রিম কর। ভিসার আবেদন প্রার্থী নিজে VFS-এ জমা দেন।
  • Employment for Skill Development-এ ঢোকার সময় জাপানি বাধ্যতামূলক নয়, তবে কাজ শুরুর আগে A1 লেভেলের পরীক্ষা পাস বা ১০০+ ঘণ্টার কোর্স শেষ করতে হবে; থাকার মেয়াদ সাধারণত ৩ বছর, লক্ষ্য SSW-1 লেভেলে পৌঁছানো।
  • এপ্রিল ২০২৭ থেকে ফির সীমা: সেন্ডিং অর্গানাইজেশন কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২ মাসের মূল বেতনের সমান টাকা নিতে পারবে; এর বেশি যা লাগবে তা জাপানি পক্ষ দেবে। মাসে ¥১,৭৬,০০০ বেতনে এটা মোট প্রায় ¥৩,৫২,০০০।
  • নিজের ইচ্ছায় কোম্পানি বদলানো যাবে ১–২ বছর পর (খাতভেদে), একই কাজের ক্যাটাগরিতে, কিছু শর্তে। ১ এপ্রিল ২০২৭-এ যাঁরা ইতিমধ্যে জাপানে ইন্টার্ন, তাঁরা অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ীই চালিয়ে যাবেন।

পথ ৪: গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রফেশনাল ওয়ার্ক ভিসা

Engineer / Specialist in Humanities / International Services স্ট্যাটাসের জন্য লাগে চাকরির সাথে সম্পর্কিত ব্যাচেলর ডিগ্রি (বা জাপানি সেনমন ডিপ্লোমা) আর জাপানি কোম্পানির অফার; কোম্পানিই জাপানে আপনার COE-র আবেদন করে। টাকার হিসাব সহজ: টিউশন নেই, পরীক্ষার ফি নেই, সাধারণত শুধু টিকিট, কাগজপত্র আর প্রথম মাসের থাকা-খাওয়া; অনেক কোম্পানি রিলোকেশনে সাহায্যও করে। কঠিন অংশটা হলো বাংলাদেশে বসে অফার পাওয়া: বাস্তবে এটা বেশি হয় IT-তে, N3–N2 জাপানি থাকলে। তাই অনেক গ্র্যাজুয়েট আগে স্টুডেন্ট পথে গিয়ে জাপানের ভেতর থেকে চাকরি খোঁজেন।

  • সরাসরি চাকরি পেলে প্রাথমিক খরচ: প্রায় ১–১.৫ লাখ টাকা (টিকিট ৬০,০০০–৯০,০০০, কাগজপত্র, VFS ১,৯০০ টাকা, প্রথম মাসের খরচ)।
  • জাপানে COE প্রসেসিং সাধারণত ১–৩ মাস; তারপর ঢাকায় VFS-এর মাধ্যমে দূতাবাস ভিসা দেয়।
  • এটাই একমাত্র ওয়ার্ক রুট যেখানে প্রথম দিন থেকেই স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান আনা যায়, আর কোনো সময়সীমা নেই।

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায়: বোয়েসেল, BMET আর যুব উন্নয়ন আসলে কী করে

সরকারিভাবে জাপান যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ আর সবচেয়ে কম খরচের, কিন্তু এটা আলাদা কোনো ভিসা নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওপরের SSW আর ইন্টার্ন স্ট্যাটাসের জন্যই আপনাকে বাছাই, প্রশিক্ষণ বা ছাড়পত্র দেয়, আর আসন থাকে ততটুকুই যতটা জাপানি কোম্পানি চায়।

প্রতিষ্ঠানযা দেয়যা করে না
বোয়েসেল (রাষ্ট্রীয় রিক্রুটিং কোম্পানি, প্রতিষ্ঠা ১৯৮৪)ওয়েবসাইটে জাপানের TITP ও SSW সার্কুলার; brms.boesl.gov.bd-তে অনলাইন আবেদন; প্রতিটি সার্কুলারে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ, পে-অর্ডারে জমাকোনো এজেন্ট, সাব-এজেন্ট বা প্রতিনিধি নেই; নগদ নেয় না; অনলাইন আবেদন মানেই চাকরি নিশ্চিত নয়
BMET ও এর TTC/IMTদেশজুড়ে ৬০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬ মাসের জাপানি (N5 ও N4) কোর্স; ট্রেড কোর্স; কর্মী নিবন্ধন ও বহির্গমন ছাড়পত্রনিজে জাপানি কোম্পানির জন্য লোক নেয় না, COE দেয় না; কোর্স শেষ মানেই চাকরি নয়
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরট্রেড প্রশিক্ষণ (যেমন ৩ মাসের পশুপালন/কৃষি কোর্স আর ১ মাসের ড্রাইভিং); ওয়েবসাইটে 'জাপান ডেস্ক' আছে, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকা দেওয়া হয়এটা রিক্রুটিং এজেন্সি নয়: চাকরির অফার বা ভিসা দেয় না, আর এর অফিসিয়াল সাইটে আমরা কোনো জাপানি ভাষা কোর্স পাইনি; জাপানি ও স্কিল টেস্ট আর বৈধ সেন্ডিং চ্যানেল তবুও লাগবে
জাপান দূতাবাস / VFS Global ঢাকাCOE থাকলে ভিসা দেয়; বাংলাদেশিদের কনস্যুলার ফি নেই; স্টাডি/ওয়ার্কে VFS সার্ভিস চার্জ ১,৯০০ টাকাচাকরি দেয় না, আর টাকার বিনিময়ে ভিসা প্রসেস করতে কোনো প্রাইভেট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয় না

আসল 'জাপান জব সার্কুলার ২০২৬' প্রকাশ হয় boesl.gov.bd-তে, অথবা লাইসেন্স নম্বর দেখাতে পারে এমন BMET-লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে, অথবা সরাসরি জাপানি কোম্পানির কাছ থেকে। শুধু একটা ফোন নম্বর আর 'ভিসার দাম' লেখা ফেসবুক পোস্ট কোনো সার্কুলার নয়।

ভুয়া 'জাপান ওয়ার্ক ভিসা' অফার: বৈধ খরচ দেখতে কেমন

জাপানের নিয়মগুলোই এমনভাবে বানানো যাতে কর্মীকে টাকা দিয়ে ঢুকতে না হয়। TITP-তে অনুমোদিত সেন্ডিং অর্গানাইজেশনকে ফি কীভাবে হিসাব হয় তা প্রকাশ করতে হয়, আর জামানত নেওয়া নিষেধ; SSW-তে জামানত আর জরিমানার চুক্তি নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক সাপোর্টের খরচ কোম্পানির; এপ্রিল ২০২৭ থেকে Employment for Skill Development-এ কর্মীর অংশ সর্বোচ্চ ২ মাসের মূল বেতন। তাই কেউ 'জাপানের' নামে লাখ লাখ টাকা চাইলে বুঝবেন, সেই টাকা জাপানের সিস্টেমে যাচ্ছে না: যাচ্ছে দালালের পকেটে।

  1. পরীক্ষা ছাড়া অদক্ষ কাজের জন্য 'কোম্পানি ভিসা', 'ফ্রি ভিসা' বা 'ওয়ার্ক পারমিট ভিসা': জাপানে এমন কিছু নেই। প্রতিটি বৈধ ওয়ার্ক রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির নামে জাপানের ইমিগ্রেশনের দেওয়া COE লাগে।
  2. টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজের ভিসায় 'কনভার্ট': শর্ট-টার্ম ভিসায় কাজ করা বেআইনি, এর ফল ডিপোর্টেশন আর পুনরায় ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা।
  3. স্টুডেন্ট ভিসাকে 'জব ভিসা' বলে বিক্রি ('পড়াশোনা শুধু কাগজে, ফুল টাইম কাজ করবেন'): শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র ২৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, বেশি কাজ নবায়নের সময় ভিসা হারানোর সাধারণ কারণ।
  4. নগদ লেনদেন, রসিদ নেই, 'অর্ধেক এখন, অর্ধেক ভিসার পর', বা 'সিকিউরিটি' হিসেবে পাসপোর্ট বা ফাঁকা চেক জমা রাখতে বলা।
  5. যে এজেন্সি BMET রিক্রুটিং লাইসেন্স নম্বর দেখাতে পারে না, বা নিজেকে বোয়েসেলের এজেন্ট বলে দাবি করে: বোয়েসেল স্পষ্ট বলেছে তাদের কোনো এজেন্ট বা সাব-এজেন্ট নেই।

বৈধ খরচ দেখতে যেমন: প্রতিটি টাকা খাত ধরে লেখা (কোর্স, পরীক্ষা, কাগজপত্র, সরকারি ফি, সার্ভিস চার্জ), প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ বা পে-অর্ডার আছে, বড় টাকা দেওয়ার আগেই কোম্পানি আর কাজের নাম জানা, আর ওয়ার্ক রুটে মোট খরচ ওপরের রেঞ্জের মধ্যে। হিসাব এমন না হলে থামুন, আর টাকা দেওয়ার আগে BMET বা বোয়েসেলে যাচাই করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে কত টাকা লাগে?

পথের উপর নির্ভর করে: ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের স্টুডেন্ট ভিসায় প্রায় ৯–১১ লাখ টাকা আর টিকিট; বৈধ কোম্পানির মাধ্যমে SSW-তে মোটামুটি ২–৪ লাখ টাকা; বোয়েসেলের সরকারি চ্যানেলে আরও কম (সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জাপান সার্কুলারে সার্ভিস চার্জ ৫৬,৩৫০ টাকা, সাথে ট্রেনিং ও কাগজপত্র); আর জাপানি কোম্পানি সরাসরি চাকরি দিলে প্রফেশনাল ওয়ার্ক ভিসায় প্রায় ১–১.৫ লাখ টাকা। সব অঙ্ক অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আনুমানিক।

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় কী, আর খরচ কত?

বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে জাপানের সার্কুলারের দিকে নজর রাখুন, N4 / JFT-Basic লেভেল পর্যন্ত জাপানি শিখুন (BMET-এর TTC-তে ৬ মাসের N5 ও N4 কোর্স আছে), আর আপনার সাথে মেলে এমন সার্কুলার এলে brms.boesl.gov.bd-তে অনলাইনে আবেদন করুন। বোয়েসেলের চার্জ প্রতিটি সার্কুলারে লেখা থাকে (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কেয়ারগিভার সার্কুলারে ৫৬,৩৫০ টাকা), জমা দিতে হয় পে-অর্ডারে, কখনো নগদে নয়।

যুব উন্নয়ন থেকে কি জাপানে যাওয়া যায়?

সরাসরি নয়। যুব উন্নয়ন ট্রেড প্রশিক্ষণ দেয়, আর ওয়েবসাইটের জাপান ডেস্কে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকা দেয়, কিন্তু চাকরির অফার বা ভিসা দেয় না। জাপানি (N4 / JFT-Basic), খাতের স্কিল টেস্ট আর বোয়েসেল বা BMET-লাইসেন্সধারী এজেন্সির মতো বৈধ চ্যানেল তবুও লাগবে।

বাংলাদেশিদের জন্য জাপান ওয়ার্ক ভিসার বয়সসীমা কত?

জাপানের আইনে SSW-র ন্যূনতম বয়স ১৮, সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই; তবে রিক্রুটার আর কোম্পানি নিজেরা সীমা ঠিক করে: বোয়েসেলের ২০২৬-এর কেয়ারগিভার সার্কুলারে চাওয়া হয়েছিল ১৮–৩৫। প্রফেশনাল ওয়ার্ক ভিসায় বয়সের নিয়ম নেই, আর ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল সাধারণত প্রায় ২৮-এর কম বয়সী শিক্ষার্থী পছন্দ করে।

জাপানে কি কি কাজের ভিসা পাওয়া যায়?

মূলত তিনটি: কেয়ারগিভিং, ফুড সার্ভিস, কনস্ট্রাকশন, কৃষির মতো খাতের কাজের জন্য Specified Skilled Worker (SSW-1, আর অ্যাডভান্সড টেস্টের পর SSW-2); টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং, যা ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে Employment for Skill Development হয়ে যাচ্ছে; আর চাকরির অফারসহ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রফেশনাল Engineer / Specialist in Humanities / International Services ভিসা।

জাপানে যাওয়ার সহজ উপায় কোনটা?

শর্টকাট নেই, তবে বেশিরভাগ তরুণ বাংলাদেশির জন্য সবচেয়ে নিশ্চিত পথ স্টুডেন্ট ভিসা: চাকরির অফার বা স্কিল টেস্ট লাগে না, শুধু N5 লেভেলের জাপানি আর প্রথম বছরের খরচ দিতে পারে এমন স্পনসর। বাজেট কম হলে আর দ্রুত আয় করতে চাইলে বাস্তবসম্মত বিকল্প হলো SSW বা বোয়েসেলের ইন্টার্ন সার্কুলার, তবে আগে N4 / JFT-Basic পাস করতে হবে।

Official source

নিয়ম ও ফি বদলায়: কোনো সিদ্ধান্তের আগে official source বা Inochi কাউন্সেলরের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

কোন পথ আপনার বাজেটে মেলে বুঝতে পারছেন না? আগে আমাদের জিজ্ঞেস করুন

Inochi-তে ফ্রি কাউন্সেলিং বুক করুন: আপনার বয়স, পড়াশোনা, বাজেট আর লক্ষ্য দেখে সৎভাবে বলব কোন বৈধ পথ আপনার জন্য, আর প্রস্তুতিতে সাহায্য করব: শিক্ষার্থীদের জন্য JLPT ক্লাস, SSW প্রার্থীদের জন্য JFT-Basic ট্র্যাক।

এই গাইড লেখার সময়কার জাপান সরকার ও প্রতিষ্ঠানের official source-ভিত্তিক সাধারণ তথ্য; এটি আইনি বা immigration পরামর্শ নয়। Immigration নিয়ম, ফি ও exchange rate বদলায়: সর্বশেষ requirement ঢাকার জাপান দূতাবাস, স্কুল বা Inochi কাউন্সেলরের কাছে নিশ্চিত করুন।

সম্পর্কিত গাইড

5 মিনিটের পড়া

স্টুডেন্ট ভিসা vs SSW (টোকুটেই গিনো) vs ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্ক ভিসা: জাপানের কোন পথ আপনার জন্য সঠিক?

একজন বাংলাদেশির জাপানে যাওয়ার তিনটি বৈধ পথ, শিক্ষার্থী হিসেবে, Specified Skilled Worker হিসেবে, বা ডিগ্রি-ভিত্তিক ওয়ার্ক ভিসায়, যোগ্যতা, খরচ, পরিবারের অধিকার, মেয়াদ আর স্থায়ী বসবাসের পথে তুলনা।

গাইড পড়ুন
4 মিনিটের পড়া

বাংলাদেশ থেকে জাপানে পড়াশোনার খরচ (২০২৬): টাকায় পূর্ণ হিসাব

টিউশন, এজেন্সি ও সরকারি ফি, শহরভেদে জীবনযাত্রার খরচ, পার্ট-টাইম কাজে কতটা কভার হয়, স্পনসরকে কী দেখাতে হয়: একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জাপানে পড়ার মোট খরচের সৎ, আইটেম-ভিত্তিক হিসাব।

গাইড পড়ুন
5 মিনিটের পড়া

বাংলাদেশে জাপান এডুকেশন কনসালটেন্সি কীভাবে বাছবেন: টাকা দেওয়ার আগে ১২টি প্রশ্ন

ঢাকার একটা বৈধ জাপান স্টাডি কনসালটেন্সি যা দেখাতে পারতে হবে, লাইসেন্স, পার্টনার-স্কুলের চিঠি, আইটেম-ভিত্তিক ফি, রিফান্ড শর্ত, আসল অ্যালামনাই, জাপানে উপস্থিতি, প্রতারণার লক্ষণ আর প্রতিটি প্রশ্নের Inochi-র উত্তর।

গাইড পড়ুন

এই বিষয়ে সাম্প্রতিক লেখা

সব লেখা

শেয়ার করুন

Free counseling

ফ্রি কাউন্সেলিং বুক করুন

একজন কাউন্সেলর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন।

+81 80-4777-1677