জাপানে সন্তান অসুস্থ হলে করণীয়: অভিভাবকদের ৬টি ভুল, যা পরে বড় বিল হয়ে দাঁড়ায়

আমি যে ভুলটাকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মনে করি, সেটা হলো: “ছোটখাটো ব্যথা, ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে।” এক ছাত্রের পেটে ব্যথা হয়েছিল, সে তিন দিন পার্টটাইম চালিয়ে গেছে। চতুর্থ দিনে অ্যাপেনডিক্সে ফেটে যাওয়ার অবস্থা, জরুরি অপারেশন, কয়েক দিন ICU আর হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ। বিমা চালু ছিল বলে সে নিজে দিয়েছে মোটামুটি ৩০% খরচ। কিন্তু দেরির কারণে চিকিৎসা, কাজ বন্ধ আর পরিবারের দুশ্চিন্তা, সবই কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই লেখায় আমি সেই ভুলগুলো বলছি, যেগুলো অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি করেন।
ভুল ১: অসুস্থতাকে “সহ্য করা” আর ১১৯ কে ভয় পাওয়া
অনেক ছাত্র ভাবে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলে বিশাল বিল আসবে। আসলে জাপানে ১১৯ নম্বরে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য চার্জ লাগে না। শুধু জরুরি অবস্থায় ডাকবেন: বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া, বড় দুর্ঘটনা। ফোন করে বলবেন “কাজি desu” (আগুন) বা “kyūkyū desu” (অ্যাম্বুলেন্স দরকার), তারপর ঠিকানা। ঠিকানা বলতে না পারলে ফোন না কেটে বাড়ির নম্বর, কাছের কনভিনিয়েন্স স্টোরের নাম বলুক। এই সপ্তাহে সন্তানকে দিয়ে নিজের ঠিকানা জাপানি ভাষায় মুখস্থ করান।
ভুল ২: জরুরি আর অজরুরি অবস্থা গুলিয়ে ফেলা
জ্বর, সর্দি বা পেটের সাধারণ সমস্যায় ১১৯ নয়, কাছের ক্লিনিকে যেতে হয়। ছোট ক্লিনিকে সাধারণত আগে ফোন করা ভালো। রাতে বা ছুটির দিনে না বুঝলে #7119 (কিছু এলাকায় চালু, নিজের শহরে নিশ্চিত হয়ে নিন) বা স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসের ইমার্জেন্সি তথ্য দেখা যায়। আরেকটা কথা: বড় হাসপাতালে রেফারেল চিঠি ছাড়া সরাসরি গেলে অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে।
ভুল ৩: জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা (NHI) কার্ড সঙ্গে না রাখা
৯০ দিনের বেশি থাকলে শিক্ষার্থীকে National Health Insurance-এ ঢুকতে হয়। কার্ড দেখালে সাধারণত খরচের ৩০% দিতে হয়। কার্ড না দেখালে Japan hospital cost without insurance হিসাব হয় পুরো ১০০%: একটা MRI-তে হাজার ইয়েনের বদলে অনেক হাজার ইয়েন লাগতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী ওয়ার্ড অফিসে ঠিকানা নিবন্ধনের সময়ই NHI করে। না হলে এ সপ্তাহেই করুন, আর কার্ডের ছবি তুলে আপনাকে পাঠাতে বলুন। মাসিক প্রিমিয়াম সাধারণত আয় অনুযায়ী কম, তবে নিজের ওয়ার্ড অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চ খরচ হলে kōgaku ryōyōhi ব্যবস্থায় মাসিক সীমার বাইরের অংশ ফেরত বা মওকুফ হয়।
ভুল ৪: শুধু NHI-কে যথেষ্ট ভাবা, অতিরিক্ত বিমা এড়িয়ে যাওয়া
NHI চিকিৎসার ৭০% দেয়, কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, পরিবারের ফ্লাইট ভাড়া বা মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সাধারণত দেয় না। অনেক স্কুল ভর্তির সময় JASSO-সংশ্লিষ্ট student accident insurance Japan বা Gakken Saigai (学研災) ব্যবস্থার কথা বলে। স্কুলে জিজ্ঞেস করুন আপনার সন্তান কোনটায় আছে, কী কভার করে, আর কাগজ কোথায়। বিমার কভারেজ ও প্রিমিয়াম স্কুলভেদে আলাদা, তাই লিখিত নিশ্চিত করুন। কোন স্কুলে কোন অনুমোদিত পলিসি আছে, তা আমি এখানে অনুমান করে বলছি না।
ভুল ৫: বিমার দাবি করতে দেরি করা বা রসিদ ফেলে দেওয়া
NHI কার্ড ছাড়া হাসপাতালে পুরো টাকা দিলে পরে ওয়ার্ড অফিসে ফেরত চাওয়া যায়, তবে রসিদ ও ডাক্তারের কাগজ লাগে। আর বেসরকারি অ্যাক্সিডেন্ট বিমায় দুর্ঘটনার বিবরণ, ডাক্তারের সনদ ও রসিদ লাগে, সময়সীমাও থাকে। সব কাগজ ফোনে ছবি তুলে রাখুন। সন্তানকে বলুন: রসিদ, প্রেসক্রিপশন, ডিসচার্জ পেপার ফেলবে না। এসব আপনার জানা থাকলে কাজ সহজ হয়।
ভুল ৬: অভিভাবকের জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা না রাখা
পরিস্থিতি খারাপ হলে হাসপাতাল, স্কুল বা পরিবারের কাছে খবর পৌঁছাতে সময় যায়। তাই parents emergency contact Japan student ব্যবস্থা আগেই ঠিক করুন:
- স্কুলের শিক্ষক ও অফিসের নম্বর আপনার কাছে রাখুন।
- সন্তানের রুমমেট বা কাছের বন্ধুর নম্বর নিন।
- WhatsApp বা LINE-এ পরিবারের একটি গ্রুপ রাখুন।
- রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি, নিয়মিত ওষুধের তালিকা ইংরেজি ও জাপানিতে ফোনে সেভ রাখুন।
- পাসপোর্ট, জাইরিউ কার্ডের কপি আপনার কাছেও রাখুন।
ভিসা ও COE-র কাগজের সঙ্গে এই তালিকাও রাখুন; বিস্তারিত দেখুন জাপান স্টুডেন্ট ভিসার প্রয়োজনীয়তা।
ভুল ৭: ভাষার বাধা আর টাকার চাপে আগে থেকে প্রস্তুতি না নেওয়া
জরুরি অবস্থায় লক্ষণ বলতে পারা কঠিন। তাই “atama ga itai” (মাথা ব্যথা), “onaka ga itai” (পেট ব্যথা), “netsu ga arimasu” (জ্বর আছে) জাতীয় কয়েকটা বাক্য শিখে রাখুন। কিছু বড় হাসপাতালে দোভাষীর সুবিধা থাকে। আরও দেখুন JLPT গাইড। আর টাকার দিক থেকে হিসাব রাখুন: HSC-র পর বিদেশে পড়াশোনা বা কম খরচে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনায় বিমা ও জরুরি তহবিল বাজেটে ধরুন। আপনি এই পথে আছেন বলে আলাদা কথা না থাকলেও, জরুরি জমানো কিছু ইয়েন এবং দেশে থেকে পাঠানোর উপায় ঠিক রাখা দরকার। অনেকে IELTS ছাড়া বিদেশে পড়াশোনা খুঁজে এসে জাপানকে বেছে নেয়, কিন্তু স্বাস্থ্য-খরচের প্রস্তুতি সবখানেই লাগে। সব অঙ্ক পরিবর্তনশীল, তাই স্কুল ও ওয়ার্ড অফিসে যাচাই করুন।
এই সপ্তাহের চেকলিস্ট
- NHI কার্ড আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- বিমার পলিসি নম্বর ও কভারেজ জেনে নিন।
- ১১৯ ও ঠিকানা বলার প্র্যাকটিস করান।
- জরুরি যোগাযোগের তালিকা বানান।
- রসিদ ছবি তুলে রাখার অভ্যাস করান।
বড় ছবির জন্য বাংলাদেশ থেকে জাপানে পড়াশোনার গাইড দেখতে পারেন।
আমি Inochi Global Education Institute-এর ঢাকার নর্থ বাড্ডা (প্রগতি সরণি) অফিসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কাজ করি। জাপানে যাওয়ার আগে বিমা, কাগজপত্র আর জরুরি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে চাইলে আমাদের জাপানে পড়াশোনার পরামর্শ সেবা দেখুন বা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মন্তব্য
…