বিদেশে উচ্চশিক্ষা: বাজেট-বান্ধব জাপান কেন সেরা পছন্দ

আপনার সন্তান এইচএসসি পাস করেছে, এখন ভাবছে বিদেশে পড়বে। কিন্তু খরচের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় আছেন? ইউরোপ-আমেরিকার টিউশন ফি শুনেই অনেক পরিবার পিছিয়ে আসে। কিন্তু আমি প্রায়ই বলি, জাপানের দিকে তাকান। জাপান শুধু প্রযুক্তি আর সংস্কৃতির জন্যই বিখ্যাত নয়, এটি বাজেট-বান্ধব একটি অপশন।
জাপানে পড়ার খরচ কেমন?
জাপানের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি বছরে প্রায় ৫৩৫,৮০০ ইয়েন (বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা)। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটু বেশি, কিন্তু তারপরও ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় অনেক কম। যেমন টোকিওর ওয়াসেদা বা কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন প্রায় ১০-১২ লক্ষ ইয়েন (৭-৮ লক্ষ টাকা), যা আমেরিকার একটি গড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও কম।
থাকা-খাওয়ার খরচ
টোকিওতে বসবাসের খরচ অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি, কিন্তু দেশের অন্যান্য জায়গায় অনেক সাশ্রয়ী। যেমন ওসাকা বা ফুকুওকায় মাসিক খরচ (থাকা, খাওয়া, পরিবহন) প্রায় ৮০,০০০-১,০০,০০০ ইয়েন (৬০-৭৫ হাজার টাকা)। আর টোকিওতে ১,২০,০০০ ইয়েনের মধ্যে ভালোভাবে চলা যায়। গ্রামীণ এলাকায় আরও কম।
পার্টটাইম কাজের সুযোগ
জাপানে স্টুডেন্ট ভিসা থাকলে সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ করা যায়। ছুটির দিনে (গ্রীষ্ম/শীতের ছুটি) সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টাও কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি বেতন টোকিওতে গড়ে ১,২০০ ইয়েন (প্রায় ৯০০ টাকা)। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করলে মাসে প্রায় ৯৬,০০০ ইয়েন আয় হয়, যা থাকা-খাওয়ার খরচের একটা বড় অংশ কভার করে দেয়।
আমার একজন ছাত্র শাহাদাত বলেছিল, 'টোকিওর শিবুয়া এলাকায় একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে পার্টটাইম করি, মাসে ১,২০,০০০ ইয়েন আয় হয়। আমার থাকা-খাওয়ার খরচ প্রায় সব ওঠে যায়।'
স্কলারশিপের সুযোগ
জাপান সরকারের MEXT স্কলারশিপ, JASSO, বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ আছে। MEXT স্কলারশিপ পেলে টিউশন ফি পুরোপুরি মওকুফ, মাসিক স্টাইপেন্ড প্রায় ১,২০,০০০ ইয়েন (প্রায় ৯০,০০০ টাকা), এবং বিমান ভাড়াও দিয়ে দেয়। তবে প্রতিযোগিতা বেশি। JASSO স্কলারশিপ মাসে ৪৮,০০০ ইয়েন দেয়, যা অনেক শিক্ষার্থী পায়।
জাপান বনাম অন্যান্য দেশ
- যুক্তরাষ্ট্র: টিউশন ফি বছরে ২০-৬০ লক্ষ টাকা, পার্টটাইম কাজ সীমিত।
- কানাডা: টিউশন ফি ১০-২৫ লক্ষ টাকা, জীবনযাত্রার খরচ বেশি।
- জাপান: টিউশন ফি (পাবলিক) প্রায় ৪ লক্ষ টাকা, পার্টটাইম কাজ সুবিধাজনক, স্কলারশিপের সুযোগ প্রচুর।
ক্যারিয়ার আউটলুক
জাপান থেকে স্নাতক শেষ করে জাপানে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ভালো। জাপানের কোম্পানিগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়, বিশেষ করে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ও বিজনেসে। জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকলে (JLPT N2/N1) সুযোগ বাড়ে। বাংলাদেশে ফিরে এসেও জাপানি কোম্পানির শাখায় কাজ করা যায়।
সতর্কতা
জাপানে পড়তে গেলে ভাষা শেখা জরুরি। বেশিরভাগ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম জাপানিজ ভাষায় হয়। ইংরেজি প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সংখ্যা কম। JLPT N2 পাস করলে সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। টোকিওর মতো বড় শহরে থাকতে চাইলে খরচ একটু বেশি হবে। তবে পরিকল্পনা করলে সবই সম্ভব।
যারা জাপানে পড়তে চান, তাদের জন্য এলিজিবিলিটি এবং স্কলারশিপ পৃষ্ঠাগুলো দেখে নিন। আর জাপানি ভাষার জন্য JLTP ক্যালেন্ডার চেক করুন। আমরা যোগাযোগ পৃষ্ঠায় আপনাকে গাইড করতে প্রস্তুত।
জাপানে পড়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানান। আপনার জন্য সঠিক পথ খুঁজে দিতে আমরা সাহায্য করব।
মন্তব্য
…