জাপানে প্রথম মাস বাঁচার গাইড: অ্যাপার্টমেন্ট, সিম, ব্যাংক ও কোবান

জাপানে পা রাখার পর প্রথম মাসটা অনেকের জন্যই একটু কঠিন মনে হয়। বাড়ি, ফোন, টাকা—এই সব কিছু নতুন করে গুছাতে হয়। কিন্তু আমি প্রায়ই ছাত্রছাত্রীদের বলি, এই চারটা জিনিস যদি প্রথম সপ্তাহে ঠিক করে ফেলতে পারেন, বাকিটা সহজ হয়ে যাবে।
১. অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজা
জাপানে থাকার জায়গা খোঁজা প্রথম কাজ। অনেকেই ডরমিটরি বা শেয়ার হাউসে থাকেন। শুরুর দিকে লিও প্যালেস বা ডোরমির মতো কোম্পানি থেকে ফার্নিশড অ্যাপার্টমেন্ট নেওয়া সহজ। এগুলোতে সাধারণত ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ থাকে। কিন্তু এগুলো একটু দামি—টোকিওতে ৫০,০০০ ইয়েন থেকে শুরু। সস্তা জায়গা চাইলে সাগামিহারা বা 치বা-র মতো শহরতলি দেখতে পারেন। ট্রেনে ৪০ মিনিট, কিন্তু ভাড়া অর্ধেক।
একটা টিপস: জাপানে ফিউরিয়ার সিস্টেম (কী মানি) আছে—অ্যাডভান্স ভাড়া, ডিপোজিট, গ্র্যাচুইটি মিলিয়ে প্রথম মাসে ৫-৬ লাখ ইয়েন লেগে যেতে পারে। তাই প্রিপেইড ছোট অ্যাপার্টমেন্ট দিয়ে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. সিম কার্ড
ফোন ছাড়া জাপানে চলা মুশকিল। জাপানের বড় কোম্পানি ডোকোমো, AU, সফটব্যাংক—এগুলো কন্ট্রাক্ট ভিত্তিক, ২ বছরের বাঁধন। বিদেশি ছাত্রদের জন্য সহজ উপায় হলো প্রিপেইড সিম। IIJmio, Y!mobile, Rakuten Mobile—এগুলো অনলাইনে অর্ডার করা যায়। আমার দেখা অনেক ছাত্র প্রথম মাসে বিগলোব নামের দোকান থেকে সিম কিনে নেয়। ৩০০০ ইয়েনে ২০ জিবি ডাটা পাওয়া যায়। এছাড়া Mobal বা Sakura Mobile আছে, যেখানে ইংরেজি সাপোর্ট আছে।
একটা সতর্কতা: আপনার ফোন আনলক করা আছে কিনা পরীক্ষা করুন। জাপানের সিম অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যান্ডে চলে।
৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
জাপানে মাস্টারকার্ড বা ভিসা ডেবিট কার্ড পেতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দরকার। Japan Post Bank (ゆうちょ銀行) সবচেয়ে সহজ—যেকোনো পোস্ট অফিসে গিয়ে খুলতে পারেন। শুধু পাসপোর্ট, রেসিডেন্স কার্ড আর হানকো (সিল) লাগে। হানকো না থাকলে সই-ও চলে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: শিঞ্জুকু পোস্ট অফিসে গিয়ে ৩০ মিনিটে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম। কিন্তু আজকাল কিছু ব্রাঞ্চে ইংরেজি ফর্ম নেই, তাই গুগল ট্রান্সলেট রেডি রাখবেন। আরেকটা অপশন হলো SMBC Prestia—এরা বিদেশি গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সার্ভিস দেয়।
৪. কোবান (পুলিশ বক্স)
জাপানে কোবান মানে ছোট পুলিশ স্টেশন, যা প্রতি ১০ মিনিটে দেখা যায়। এখানে আপনার ঠিকানা নিবন্ধন করতে হয়। জাপানে থাকার ১৪ দিনের মধ্যে আপনার জেলার কোবানে গিয়ে রেসিডেন্স কার্ডে ঠিকানা লিখিয়ে নিতে হবে। এটা না করলে জরিমানা বা ভিসা সমস্যা হতে পারে।
কোবান পুলিশ খুবই হেল্পফুল—হাতের ইশারায় পথ দেখিয়ে দেয়, জিনিস হারালে সাহায্য করে। আমি একবার আমার ব্যাগ ভুলে গিয়েছিলাম ইকেবুকুরো স্টেশনে, ২ ঘণ্টা পর কোবানে পেলাম। তাই কোবানকে ভয় না পেয়ে বন্ধু হিসেবে ভাবুন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস
- জাপানি ভাষা: প্রথম মাসে অন্তত হিরাগানা-কাতাকানা শিখে নিন। JLPT N5 লেভেল থাকলে অনেক সুবিধা।
- পার্টটাইম কাজ: ছাত্রছাত্রীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। রেস্তোরাঁ বা সুবিধাজনক দোকানে কাজ জোগাড় করুন। টোকিওতে ঘণ্টাপ্রতি ১,০০০ ইয়েন থেকে শুরু।
- হেলথ ইন্সুরেন্স: জাপানের ন্যাশনাল হেলথ ইন্সুরেন্সে (NHI) যোগ দিতে ভুলবেন না। মাসে ২,০০০ ইয়েনের মতো লাগে, কিন্তু ডাক্তার দেখালে ৭০% কভার করে।
শেষকথা: প্রথম মাসটা একটু অগোছালো লাগতে পারে, কিন্তু ধৈর্য ধরুন। প্রতিদিন একটু করে জিনিস গুছিয়ে নিন। আর কোনো সমস্যা হলে আমার কাছে জানতে চাইতে পারেন। আমরা Inochi Global Education Institute-এ আছি আপনাদের জন্য।
মন্তব্য
…